সময়ের মধ্যে না এলে যা ঘটবে…ছাত্রী থেকে শিক্ষিকা কেউ প্রবেশ করতে পারবেনা এই স্কুলে?

বাড়ি থেকে স্কুলের পোশাক পরে বের হলেও অনেক ছাত্রী নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে পৌঁছাচ্ছে না, কিংবা স্কুলের পাশে পার্কে দল বেঁধে আড্ডা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রামপুরহাট গার্লস হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ। যখন খুশি স্কুলে প্রবেশ এবং বের হওয়ার ওপর রাশ টানতে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ, যা ছাত্রী এবং অভিভাবকদের জানানো হয়েছে।
সমস্যা ও পদক্ষেপ:
রামপুরহাট শহরের অন্যতম নামী এই স্কুলে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩৮০০ ছাত্রী রয়েছে। শিক্ষিকার সংখ্যা অপ্রতুল হলেও, স্কুল কর্তৃপক্ষ অতীতে মেধা তালিকায় স্থান করে নিতে সফল হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ছাত্রীর মধ্যে নিয়মানুবর্তিতার অভাব দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ছাত্রী স্কুলের পোশাক পরেই যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে, আবার অনেকে স্কুলে এসেও ক্লাস করছে না, বরং স্কুলের সামনের টাউন হলের শৌচাগারে পোশাক বদলে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। টিচার ইনচার্জ মল্লিকা হালদার এর আগে কয়েকবার অভিযান চালিয়ে ছাত্রীদের ধরে স্কুলে ফিরিয়ে এনেছেন এবং অভিভাবকদের সচেতন করেছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি নোটিস পাঠিয়ে জানিয়েছে যে, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের পর স্কুলের গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর কোনো ছাত্রীকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গেট আবার খুলবে বিকেলে ৪টা ৩০ মিনিটে।
অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ:
কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ করেছে যে, তারা যেন তাদের ছাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে পৌঁছে দেন এবং ছুটির পর বাড়ি নিয়ে যান। টিচার ইনচার্জ মল্লিকা হালদার বলেন, “কিছু ছাত্রী স্কুলে আসেই না, অথচ অভিভাবকরা মনে করছেন তাদের মেয়েরা স্কুল করছে। আবার অনেকে দেরিতে আসছে। স্কুলের চিরাচরিত রীতি হারিয়ে যাচ্ছিল, তাই ছাত্রীরা যাতে নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে আসে এবং যখন খুশি বেরিয়ে যেতে না পারে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ।”
কিছু ছাত্রী এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, অনেকে বলেছেন যে সকালে টিউশন থাকায় তাদের স্কুলে আসতে দেরি হয়। স্কুল সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কোনো স্থায়ী শিক্ষক নেই। যদিও মল্লিকা হালদার বলেন, শিক্ষিকার সংখ্যা কম থাকলেও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষিকাদের দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাসগুলো করানো হচ্ছে।