রানিনগরে ৬ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও ১ ভারতীয় দালাল গ্রেফতার, সীমান্তে বাড়ছে কড়াকড়ি

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার নদিয়ার রানিনগর থানার পুলিশ সীমান্ত এলাকা থেকে ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাদের সহযোগিতার অভিযোগে একজন ভারতীয় দালালকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের আজ বহরমপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

মুর্শিদাবাদ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই জুলাই মাসেই মুর্শিদাবাদ পিডি পুলিশ মোট ২১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। সাম্প্রতিক এই গ্রেফতারি সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

কীভাবে ঘটল এই গ্রেফতারি?

রানিনগর থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কাতলামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বটতলা এলাকা থেকে এই ৭ জনকে আটক করে। তাদের কাছে ভারতে প্রবেশের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। তাদের সঙ্গে থাকা ভারতীয় নাগরিক আসরাইল শেখ (২৯), যার বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার রানিনগর থানার রাধাগোবিন্দপুর গ্রামে, এই অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ।

ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ এই বিষয়ে বলেন, “বৃহস্পতিবার সকালে রানিনগর থানা এলাকার সীমান্ত দিয়ে ছ’জন বাংলাদেশের নাগরিক এক দালাল মারফত ভারতে অনুপ্রবেশ করে। কারও কাছে ভারতে আসার বৈধ কাগজ ছিল না। ধৃতদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।”

ধৃতদের পরিচয়:

ধৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম ও ঠিকানা হল:

মহম্মদ আবদুল্লা (২০), বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চৈরাসিয়া গ্রামে।

কেতাবুর শেখ (২৬), বাড়ি রাজশাহী জেলার তানুর গ্রামে।

কামালউদ্দিন (২৮), বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাবাড়ি।

কালিমুদ্দিন রহমান (২৫), বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাবাড়ি গ্রামে।

মহম্মদ সেলিম (৩৭), বাড়ি ফেনি জেলার দেগুবুনিয়া গ্রামে।

মহম্মদ জুয়েল রানা (২৪), বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দেবিনগর নতুনগ্রাম।

তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি:

বিহারের পর বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর জল্পনার মধ্যেই বাংলাদেশি নাগরিক এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ‘পুশব্যাক’ করা নিয়ে শাসক-বিরোধী তর্জায় দেশজুড়ে শোরগোল পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রানিনগর, জলঙ্গি, সাগরপাড়া এলাকার মতো সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা জেলা পুলিশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে সীমান্ত এলাকার থানাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। এই গ্রেফতারিগুলি প্রমাণ করে যে, সীমান্তে কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হয়েছে।