নবান্নের গোপন তথ্য ফাঁস, শুভেন্দুর দাবি, প্রশাসনেই রয়েছেন ‘সোর্স’, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হচ্ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গোপন তথ্য কীভাবে তাঁর হাতে আসছে, তা নিয়ে যখন বাংলা জুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, তখনই বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন বিজেপি-র এই শীর্ষ নেতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্য প্রশাসনেরই কিছু উচ্চপদস্থ কর্তা ব্যক্তি তাঁকে নবান্নের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে সাহায্য করছেন।
এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। এতদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস যখন শুভেন্দুর তথ্য ফাঁস করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল, এবার সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন স্বয়ং বিরোধী দলনেতা।
কারা তথ্য যোগান শুভেন্দুকে?
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, রাজ্যের শতাধিক WBCS অফিসার এবং অন্তত ২০ জন IAS অফিসার তাঁকে নবান্নের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন। এই কারণেই তিনি রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতি জনসমক্ষে তুলে ধরতে পারছেন বলে জানান। এই ‘সাহায্যকারী’ অফিসারদের তিনি ধন্যবাদও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, নবান্নের একাধিক ‘ব্লু প্রিন্ট’ এই প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের হাত ধরেই ঘুরপথে তাঁর কাছে এসে পৌঁছায়।
শুভেন্দুর বার্তা: ‘ভোটার তালিকা তৈরি করতে পারবে না কমিশন’
সম্প্রতি BLO (বুথ লেভেল অফিসার) পরিবর্তন প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “BLO-দের পরিবর্তন করার জন্য বলেছেন, কিন্তু তা পারবেন না। যা করছেন, কমিশন রাজ্যের ভোটার তালিকা তৈরি করতে পারবে না। তালিকা তৈরি করতে না পারলে ভোটও হবে না। মমতার প্রশাসন নির্বাচন কমিশনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে।” এর পরেই তিনি নাম প্রকাশ না করে সেইসব প্রশাসনিক কর্তাদের ধন্যবাদ জানান, যারা তাঁকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করছেন। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এই কর্তারা প্রকারান্তরে রাজ্যেরই উপকার করছেন।
তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ: ‘তদন্ত হওয়া জরুরি’
শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর স্বভাবতই পাল্টা সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “তাহলে শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতার করে তার থেকে বিষয়টি জেনে নিতে হবে। যদি কোনো অফিসার এভাবে সরকারি তথ্য পাচার করে বা সরকারের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করে, তাহলে সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। তদন্ত হওয়া জরুরি।” তৃণমূলের এই প্রতিক্রিয়া রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রশাসন ও রাজনীতির পুরনো খেলা?
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারী নিয়মিতভাবে আর্থিক তছরূপ সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ফাঁস করছেন। কখনও তিনি কোনো গোপন রিপোর্ট তুলে ধরছেন, আবার কখনও কোনো নথি বা তথ্যের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করছেন। তবে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের মাধ্যমে সরকারি তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা এই রাজ্যে নতুন নয়। বাম জমানাতেও তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশাসনের অন্দরমহল থেকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করা হতো বলে অভিযোগ ছিল। এবার একই অভিযোগের মুখে শাসক দলের প্রাক্তন এবং বর্তমান বিরোধী নেতা।
শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবি নিঃসন্দেহে রাজ্য প্রশাসনে এক অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। একই সাথে, সরকারি তথ্য ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে কী ধরনের তদন্ত হয়, এবং তার ফলাফল কী দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।