উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে বেহাল রাস্তার বলি প্রৌঢ়া, কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দৃশ্য

উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের গোবিন্দকাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ফের বেহাল রাস্তার জেরে রোগীর চরম দুর্ভোগের এক মর্মান্তিক চিত্র সামনে এল। কাদা ভর্তি মাটির রাস্তায় হাঁটু সমান জল ভেঙে অসুস্থ এক প্রৌঢ়াকে দোলনায় বসিয়ে, বাঁশের মাধ্যমে কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হলেন স্থানীয়রা। এই ঘটনা রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামোর বেহাল দশা এবং শাসকদলের প্রতি বিরোধী শিবিরের সমালোচনার নতুন খোরাক জুগিয়েছে।
মর্মান্তিক দৃশ্য ও জনরোষ
ভিডিওতে দেখা গেছে, গ্রামের কাঁচা রাস্তা কাদায় ভরে গেছে এবং তাতে বৃষ্টির জল জমে হাঁটু সমান উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই কর্দমাক্ত পথেই বাঁশের দোলনায় বসিয়ে কাঁধে করে প্রৌঢ়াকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন গ্রামবাসী। এই দৃশ্য এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
ঘটনাটি এমন এক এলাকায় ঘটেছে, যেখানে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান দেবেশ মণ্ডল বর্তমানে হিঙ্গলগঞ্জের তৃণমূলের বিধায়ক। এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে বিজেপি তীব্র কটাক্ষ করেছে। বিজেপির অভিযোগ, “এই বেহাল রাস্তাই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তৃণমূল আমলে উন্নয়ন কতটা বেহাল।” তারা দাবি করছেন, শাসকদলের জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও এলাকার মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলির সমাধান হচ্ছে না।
অন্যদিকে, এই অভিযোগের জবাবে তৃণমূল বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল জানিয়েছেন, “বাম আমলের রাস্তা মেরামতে সময় লাগছে। মানুষকে খেপিয়ে লাভ নেই।” তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যার কারণে রাস্তা সংস্কারে সময় লাগছে এবং দ্রুত এর সমাধান হবে। তবে তার এই মন্তব্যে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমছে না।
এই ঘটনা আবারও রাজ্যের গ্রামীণ সড়ক পরিকাঠামোর দুর্বলতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
২. ডাক্তারদের পোস্টিং মামলা হাইকোর্টেই, রাজ্যকে সতর্ক করলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু: ‘আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট’
কলকাতা, ৩০ জুলাই, ২০২৫:
চিকিৎসকদের পোস্টিং সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (SAT)-এর কাছে পাঠানোর রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এই রায় দেন এবং রাজ্যকে ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলায় আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন তিন চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো, আশফাকুল্লা নাইয়া এবং দেবাশিস হালদার তাঁদের পোস্টিং নিয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। রাজ্য সরকার এই মামলাগুলি SAT-এর কাছে স্থানান্তরিত করার জন্য আবেদন জানায়।
আজ বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু রাজ্যের সেই আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, “এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট আগেও নিজের অবস্থান জানিয়েছে।” তাঁর মন্তব্য, “রাজ্যকে এই ধরনের মামলায় আপত্তি জানানোর ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।” বিচারপতি আরও যোগ করেন যে, রাজ্য এ বিষয়ে সতর্ক থাকলে আদালতের মূল্যবান সময় বাঁচবে।
হাইকোর্টের এই রায় তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নাগরিকদের সরাসরি হাইকোর্টে আসার অধিকারকে আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল। একই সাথে, এটি সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, তারা যেন তুচ্ছ কারণে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে। এই মামলার শুনানি এখন কলকাতা হাইকোর্টেই চলবে, যা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং রাজ্যের অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ পোস্টিং নীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।