প্রথমবার দক্ষিণেশ্বরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু , কড়া নিরাপত্তা ও ঝলমলে আলোকসজ্জায় ভবতারিণী মন্দির প্রস্তুত

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আজ, বুধবার দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির পরিদর্শনে আসছেন। রাষ্ট্রপতির এই ঐতিহাসিক সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে এবং দুপুর থেকেই সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রাষ্ট্রপতি মন্দিরে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে, যার জন্য মন্দিরকে কালী পুজোর রাতের মতো বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।
সড়কপথে আগমন ও পুণ্যার্থীদের প্রবেশ বন্ধ
সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আজ বিকেলে সড়কপথে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পৌঁছবেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। দুপুর থেকেই মন্দিরে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে। মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
পূজা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
দক্ষিণেশ্বরে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি প্রথমে ভবতারিণী মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করবেন এবং সেখানে বিশেষ পুজো দেবেন। এরপর তিনি যাবেন নাটমন্দিরে, যেখানে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে রাষ্ট্রপতিকে সংবর্ধনা জানানো হবে। এই সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির হাতে মানপত্র, মন্দির ও ভবতারিণী দেবীর একত্রে বাঁধানো ছবি এবং একটি স্মারক তুলে দেওয়া হবে। এটি রাষ্ট্রপতির প্রতি মন্দির কর্তৃপক্ষের শ্রদ্ধা ও সম্মানের প্রতীক।
নাটমন্দির চত্বরে সংবর্ধনা পর্ব শেষ হলে রাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণের মন্দির, শ্রী রামকৃষ্ণের ঘর এবং রানি রাসমণির মন্দির পরিদর্শন করবেন। এই ঐতিহাসিক স্থানগুলি ঘুরে দেখে তিনি এখানকার আধ্যাত্মিক পরিবেশ অনুভব করবেন।
কথামৃতের সজ্জায় মন্দির, বৃষ্টির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরকে বিশেষ রূপে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। কথিত আছে, কথামৃতে ভবতারিণী দেবীর যে সজ্জার বর্ণনা রয়েছে, ঠিক সেইভাবেই আজও মন্দিরকে সাজানো হয়েছে। বৃষ্টির কারণে যাতে রাষ্ট্রপতির মন্দিরে যেতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য একটি বিশেষ ক্যানোপি (তাঁবু)-র পথ তৈরি করা হয়েছে, যা তাঁকে সুরক্ষিতভাবে মন্দিরের অভ্যন্তরে নিয়ে যাবে।
সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি সড়কপথে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। তাঁর এই সফর দক্ষিণেশ্বর মন্দির এবং এর ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।