বারাসতে গৃহবধূ খুনে চাঞ্চল্য, হোমগার্ড স্বামী গ্রেফতার, সম্পর্কের জেরে অশান্তির অভিযোগ

উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের টাকিখোলা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্ত্রীকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অস্থায়ী হোমগার্ড স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃত গৃহবধূর নাম নাসরিন সুলতানা (২০)। তাঁর স্বামী, অভিযুক্ত নাজমুল হুদা, মধ্যমগ্রাম ট্রাফিকের অস্থায়ী হোমগার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সোমবার রাতে নাসরিনের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নাজমুলকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগ ও আটক
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসরিনের পরিবার সোমবার রাতে বারাসত থানায় নাজমুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তাদের অভিযোগ, নাজমুল নাসরিনকে খুন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং রাতেই অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কথায় একাধিক অসংলগ্নতা পাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
দাম্পত্য কলহ ও নির্যাতনের অভিযোগ
চার মাস আগে নাজমুলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল নীলগঞ্জের বেড়াবেড়িয়া এলাকার নাসরিনের। নাসরিনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগে ছিল। নাজমুল নিয়মিত নাসরিনের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। এমনকি, সংসারের সমস্ত কাজ করার পরও নাসরিনকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হত না বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
এই নির্যাতনের জেরে একবার অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন নাসরিন। তখন সমস্যা সমাধানের জন্য দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা হয়, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। নাসরিনের উপর অত্যাচার চলতেই থাকে বলে অভিযোগ পরিবারের।
খুনের অভিযোগ বনাম আত্মহত্যার দাবি
সোমবার নাসরিনের পরিবারের কাছে খবর আসে যে তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন। খবর পেয়ে তারা দ্রুত নাসরিনের শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান এবং ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাদের মেয়েকে ঝুলতে দেখেন। নাসরিনের পরিবারের দাবি, নাজমুলের অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই অশান্তি লেগে থাকত। তাদের অভিযোগ, এই সম্পর্কের জেরেই নাসরিনকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে, নাজমুলের পরিবার খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, নাসরিন নিজেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশের বক্তব্য
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বারাসত পুলিশ জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়া বলেন, “এটি খুন নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে। মৃতের পরিবারের লোকজন খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তদন্ত এখনও চলছে এবং এর আগে বিশদে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
বর্তমানে নাজমুল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।