ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ১০ টাকার ‘বদলা’- কোহিনূরের বিতর্ক ও এক অভিনব প্রতিবাদ

ব্রিটিশ মিউজিয়াম, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ঐতিহাসিক সম্পদ প্রদর্শনের জন্য পরিচিত, আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দীর্ঘকাল ধরেই এটি ঔপনিবেশিক যুগে বিভিন্ন দেশ থেকে ‘অর্জিত’ মূল্যবান জিনিসপত্র নিজেদের হেফাজতে রাখার জন্য সমালোচিত। এই বিতর্কের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারতের ঐতিহাসিক কোহিনূর হীরকখণ্ড, যা বারবার মালিকানা বিতর্কের জন্ম দিলেও এখনও ব্রিটিশদের দখলেই রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, সম্প্রতি একটি ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে, যা মিউজিয়ামের অনুদান চাওয়ার বিষয়টিকে হাস্যরসের খোরাক করে তুলেছে।

লন্ডনে অবস্থিত এই সুবিখ্যাত মিউজিয়ামটি দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার প্রদান করে, তবে সম্প্রতি এটি দর্শকদের কাছে অনুদান চাওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এক ভারতীয় পর্যটকের শেয়ার করা একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ব্রিটিশ মিউজিয়ামের একটি অনুদান বাক্সের মধ্যে একটি মাত্র ১০ টাকার ভারতীয় নোট রাখা রয়েছে, যার মূল্য এক ব্রিটিশ পাউন্ডেরও কম। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, “Welcome to the British Museum. Every £ helps the Museum’s work।”

ক্যামেরা যখন অনুদান বাক্সের দিকে জুম করে, তখন ১০ টাকার নোটটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে নেটিজেনদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে এবং অনেকেই মিউজিয়ামের অনুদান চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করেন।

ইনস্টাগ্রামে চিরায়ু মিস্ত্রী (@chirayu_m) নামের ওই পর্যটক ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “Core memory created. কিসি নে কোহিনূর কা বদলা লে লিয়া গাইজ।” (কেউ কোহিনূরের বদলা নিয়ে নিয়েছে, বন্ধুরা।) তার এই রসিকতা বহু মানুষের মন জয় করেছে।

ভিডিওটি দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “সারা বিশ্বের জিনিস চুরি করেছে, আর এখন অনুদান চাইছে? এটা শুধু ব্রিটিশরাই করতে পারে।” আরেকজন ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “তাহলে এখন ওরা চুরি বন্ধ করে ভদ্রভাবে চাইছে, তাই তো?”

আরও তীব্র ব্যঙ্গ করে একজন মন্তব্য করেন, “চুরি থেকে ভিক্ষা পর্যন্ত যাত্রা।” অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যিনি ওই ১০ টাকা রেখেছেন, তিনি আসলেই একজন কিংবদন্তি।” কেউ কেউ রসিকতা করে বলেন, “ইচ্ছা করে রেখেছে ওটা।” আবার একজন বলেন, “এখন ওদের ৪৫ ট্রিলিয়ন ও আমাদের ১০ টাকা ফেরত দিতে হবে।”

কোহিনূর হীরা ফেরত দেওয়া নিয়ে ব্রিটিশ মিউজিয়াম এবং যুক্তরাজ্য সরকার এখনও কোনো চূড়ান্ত অবস্থান জানায়নি। তবে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের কালচার, মিডিয়া এবং স্পোর্টস দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত লিসা ন্যান্ডি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে ভারত এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পদের ভাগাভাগি ও সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমি আমার ভারতীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করেছি।”

তবে এই ১০ টাকার নোটের ঘটনা প্রমাণ করে, কোহিনূরের বিতর্ক এবং ঔপনিবেশিক অতীতের ছায়া এখনও ব্রিটিশ মিউজিয়ামের উপর গভীরভাবে বিস্তৃত।