৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা ভেসে চলে গেলো বাংলাদেশে, মন্ত্রী বলছেন, ‘বর্ষার দোষ’

মেঘালয়ের দুটি কয়লাখনি থেকে প্রায় ৪০০০ মেট্রিক টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজ্য জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কয়লার হদিশ না মেলায় হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত চলছে, আর তার মধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রী কিরমেন শিলা এক অদ্ভুত যুক্তি খাড়া করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তার দাবি, “বৃষ্টির তোড়ে কয়লা ধুয়ে বাংলাদেশে চলে গিয়েছে!”

কয়লা নিখোঁজের অভিযোগ উঠেছে রাজাজু ও দিয়েংনাং গ্রামের কয়লাখনি থেকে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিপি কাটাকের নেতৃত্বাধীন একটি নিরীক্ষা কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, দিয়েংনাংয়ে মজুত থাকা ১৮৩৯.০৩ মেট্রিক টন কয়লার মধ্যে মাত্র ২.৫ মেট্রিক টন কয়লার হদিশ মিলেছে। একইভাবে, রাজ্যব্যাপী থাকা ২১২১.৬২ মেট্রিক টন কয়লার মধ্যে পাওয়া গেছে মাত্র ৮ মেট্রিক টন। বাকি বিপুল পরিমাণ কয়লার কোনো হিসেব নেই।

এই গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেঘালয় হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে দ্রুত ও কঠোরভাবে তদন্তের নির্দেশ দেয়। ঠিক এই সময়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে কিরমেন শিলা এক অবিশ্বাস্য দাবি করেন। তিনি বলেন, “মেঘালয়ে দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়। সেই বর্ষার জলে কয়লা ভেসে গিয়ে অসম ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় পৌঁছে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বন্যার জল সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই জলেই কয়লা ভেসে যেতে পারে। পাচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। যদি সত্যিই কিছু হয়ে থাকে, তা প্রমাণসাপেক্ষ।”

মন্ত্রীর এই বক্তব্যে নতুন করে বিতর্কের ঢেউ উঠেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কয়লার মতো ভারী খনিজ পদার্থ শুধুমাত্র বৃষ্টির জলে ভেসে গিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাড়ি দেওয়া প্রায় অসম্ভব। অভিযোগ উঠেছে যে, এর আড়ালে একটি বড়সড় বেআইনি কয়লা পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং সেই পাচার ধামাচাপা দিতেই এমন অবাস্তব অজুহাত দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যেমন তোলপাড় চলছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে মন্ত্রীর এই দাবি নিয়ে তীব্র হাস্যরস ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাইকোর্টের তদন্তে আসল সত্য উদঘাটিত হবে, এমনটাই আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।