টিসিএস-এ বড় ছাঁটাইয়ের ঘোষণা, এআই নির্ভর ভবিষ্যতের পথে ১২,০০০ কর্মী হারাচ্ছে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস

দেশের বৃহত্তম সফটওয়্যার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) ২০২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে প্রায় ১২,০০০ কর্মী ছাঁটাই করার এক যুগান্তকারী ঘোষণা করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উপর জোর দিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানি। এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া এপ্রিল ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে কার্যকর হবে।
বর্তমানে টিসিএস-এর কর্মী সংখ্যা ৬.১৩ লক্ষেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ২%, অর্থাৎ আনুমানিক ১২,২০০টি পদ বিলুপ্ত করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিগত বিপ্লবের যুগে কোম্পানিকে আরও ছোট, আরও তৎপর এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলা।
“কাজের ধরণ বদলে দিচ্ছে এআই”: সিইও কে. কৃতিবাসন
মানিকন্ট্রোলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিসিএস-এর সিইও কে. কৃতিবাসন এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে এআই এবং ক্রমবর্ধমান অপারেটিং মডেলের উপর জোর দিচ্ছি। আমরা যেভাবে কাজ করি, তা পরিবর্তিত হচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং তৎপর হতে হবে। আমরা ব্যাপকভাবে এআই ব্যবহার করছি এবং এই নতুন যুগে প্রয়োজনীয় দক্ষতা মূল্যায়ন করছি।”
কৃতিবাসন আরও যোগ করেন, “আমরা আমাদের কর্মীদের কর্মজীবনের বিকাশে সাহায্য করার জন্য প্রচুর বিনিয়োগ করেছি। তবে, কিছু পদ রয়েছে যেখানে কর্মী রাখার আর প্রয়োজন নেই। এই সিদ্ধান্তটি আমাদের বিশ্বব্যাপী কর্মীদের প্রায় ২% কে প্রভাবিত করবে, মূলত মধ্য ও ঊর্ধ্বতন স্তরে। এটি একটি সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না – এটি সিইও হিসেবে আমার নেওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি।”
প্রযুক্তি-চালিত রূপান্তর ও মানবিক দিক
টিসিএস তার বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমে এআই-চালিত সরঞ্জাম এবং অটোমেশন চালু করছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি রুটিন এবং ব্যাকএন্ড কাজের ক্ষেত্রে কর্মীদের ভূমিকা হ্রাস পেয়েছে। কৃতিবাসন জোর দিয়ে বলেছেন যে কোম্পানিটি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে এই প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, “একটি শক্তিশালী টিসিএস গড়ে তোলার জন্য, আমাদের এই কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে হয়েছিল।”
সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য একাধিক সহায়তা ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নোটিশ-পিরিয়ড পেমেন্ট, বর্ধিত বীমা কভারেজ, অবসর সুবিধা এবং অন্যান্য সংস্থায় কাজের সুযোগ খুঁজে পেতে সহায়তা (আউটপ্লেসমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স)।
এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি শিল্পে এআই-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং কর্মসংস্থানের উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। একদিকে যেমন টিসিএস বিশাল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে এই ছাঁটাইয়ের ঘোষণা কর্মীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রের একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।