জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এলেন নার্স, বিরল ‘এবি’ নেগেটিভ রক্ত পেয়ে স্বস্তি জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে

জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২১ বছর বয়সী এক যুবকের জীবন বাঁচাতে বিরল ‘এবি’ নেগেটিভ রক্ত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক নার্স। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে নির্দিষ্ট গ্রুপের রক্ত না থাকায় যখন রোগীর পরিজনরা দিশেহারা, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো এগিয়ে এসে রক্তদান করেন তৃষ্ণা সূত্রধর নামে ওই নার্স স্টাফ।

জানা গেছে, খাদ্যনালীর জটিল সমস্যা নিয়ে ২১ বছর বয়সী ওই যুবক জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শরীরে জরুরি ভিত্তিতে ‘এবি’ নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে এই বিরল গ্রুপের রক্ত মজুত না থাকায় রোগীর পরিবারের সদস্যরা চরম বিপাকে পড়েন।

এরপরই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রোগীর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসে এবং দ্রুত সমাজ মাধ্যমে রক্তের জন্য প্রচার শুরু করে। সেই প্রচারে সাড়া দিয়ে হাসপাতাল চত্বর থেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন নার্স তৃষ্ণা সূত্রধর। রবিবার সকালে তিনি ব্লাড ব্যাঙ্কে এসে প্রথমবার রক্তদান করেন।

রক্তদানের পর তৃষ্ণা সূত্রধর জানান, “রোগীর পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারলাম ২১ বছরের একটি ছেলের খাদ্যনালীতে সমস্যা থাকায় তার অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং পেটে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ‘এবি’ নেগেটিভ রক্তের খুব দরকার ছিল। এই গ্রুপের রক্ত পাওয়া খুবই কঠিন। খবর পেয়েই রক্ত দিতে এগিয়ে এলাম। আমার মনে হয়, এই ধরনের উদ্যোগে সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত, কারণ কার কখন রক্তের প্রয়োজন হয়, তা তো কেউ বলতে পারে না।”

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য পম্পা সূত্রধর বলেন, “গতকালও আমরা ‘এবি’ নেগেটিভ রক্তের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু জোগাড় করতে পারিনি। রাতে নার্সিং স্টাফ তৃষ্ণা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আজ সকালে তিনি রক্ত দিলেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

রোগীর পরিজন বাপী ঘোষ স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “আমার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং জরুরি রক্তের প্রয়োজন ছিল। অনেক চেষ্টার পর অবশেষে রক্ত পাওয়া গেল। খুব ভালো লাগছে।”

নার্স তৃষ্ণা সূত্রধরের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু ২১ বছরের ওই যুবকের জীবনই বাঁচাল না, বরং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং অন্যের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এই ঘটনা জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে এক ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।