থানায় শুভেন্দু অধিকারীর নজিরবিহীন প্রবেশ, ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো’র অভিযোগে চরম বার্তা বিরোধী দলনেতার

রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার তিনি সরাসরি হাওড়ার বাউড়িয়া থানায় ঢুকে পুলিশের মুখোমুখি হলেন এবং ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো’র অভিযোগ তুলে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন। বিরোধী দলনেতার এই সরাসরি পুলিশি দফতরে ঢুকে প্রতিবাদ জানানোর ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে কেন্দ্র করে। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, শাসক দলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এই অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই এদিন তিনি সটান বাউড়িয়া থানায় হাজির হন।
থানায় প্রবেশ করে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল সুনির্দিষ্ট: নিরীহ কর্মীদের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ চাপানো হচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ না হলে এর ফল ভালো হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন। থানার ভিতরে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বাক-বিতণ্ডার খবরও সামনে এসেছে।
শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, “গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করা আমাদের অধিকার। কিন্তু সেই অধিকারকে খর্ব করার জন্য যদি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়, তাহলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। পুলিশকে মনে রাখতে হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এই ধরনের মিথ্যা মামলায় যারা যুক্ত, তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে।” তাঁর এই উক্তি থেকে স্পষ্ট, তিনি পুলিশ প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
বিরোধী দলনেতার এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর আগে অনেক রাজনৈতিক নেতা পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন, কিন্তু সরাসরি থানায় ঢুকে আধিকারিকদের সঙ্গে এমন কড়া ভাষায় কথা বলার ঘটনা বিরল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে, তেমনি প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করবে।
এখন দেখার বিষয়, শুভেন্দু অধিকারীর এই চরম বার্তার পর পুলিশ প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং এই ঘটনার রেশ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে।