গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার দোরগোড়ায় আরণ্যক, ফুটবল নয়, দাবাই ধ্যানজ্ঞান ২১ বছরের তরুণের

ভারতীয় দাবার নতুন দিগন্তে উদীয়মান তারকা, ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার আরণ্যক ঘোষ এখন গ্র্যান্ডমাস্টার নর্মের থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে। দুটি নর্ম ইতিমধ্যেই অর্জন করেছেন, প্রয়োজন আর একটি মাত্র। এই লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি তাঁর চোখ এখন আসন্ন দাবার বিশ্বকাপে ভালো ফলের দিকে, যা দেশের মাটিতেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই তরুণ প্রতিভাকে সম্মান জানাতে এগিয়ে এসেছে ঐতিহ্যবাহী ইস্টবেঙ্গল ক্লাব।
বৃহস্পতিবার লাল-হলুদ শিবিরের তরফে চিঠি পাওয়ার পর ইটিভি ভারতের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে আরণ্যক জানান, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের এই সম্মানে তিনি খুশি হলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি ফুটবল বা আইএসএলের অনুরাগী নন। তাঁর মা ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক এবং বাবা মোহনবাগানের সমর্থক হলেও, ২১ বছর বয়সী আরণ্যকের প্রিয় দল হলো বার্সেলোনা! আগামী ১ অগস্ট ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবসে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
গাঙ্গুলিবাগানের বাসিন্দা এই স্নাতক স্তরের ছাত্র বর্তমানে নিজের এলো রেটিং বাড়ানোর লক্ষ্যে কঠোর অনুশীলন করছেন। দাবার বিশ্বকাপের আগে তাঁর অনুশীলনের সময়ও বেড়েছে। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ হওয়ায় আরণ্যক বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, “দেশে খেলা হওয়ায় পরিবেশটা চেনা। এটা অবশ্যই সুবিধার। তাছাড়া খরচ কম হওয়ায় মা-বাবাও সহজেই ট্র্যাভেল করতে পারবে, সেটাও বাড়তি সুবিধা।”
আরণ্যকের দাবা জগতে প্রবেশ তাঁর বাবা মৃণাল ঘোষের হাত ধরে, যিনি নিজেও একজন দাবার প্রশিক্ষক। তাঁর মা পেশায় আইনজীবী হলেও বর্তমানে গৃহিণী। আরণ্যক জানান, “চার বছর বয়সে বাবার কাছেই আমার দাবা খেলা শুরু। সেই সময় বাবা দেখতে চেয়েছিল আমি আগ্রহী কি না। সেই থেকেই দাবাকে আঁকড়ে ধরা শুরু।” স্পষ্টতই, দাবা তাঁর প্রথম প্রেম এবং এটি নিয়েই তিনি ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে চান।
এই মুহূর্তে ভারতীয় দাবার স্বর্ণযুগ চলছে। প্রজ্ঞানন্দ এবং ডি গুকেশের মতো ভারতীয় দাবাড়ুরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাপট দেখাচ্ছেন, বিশ্বের তাবড় দাবাড়ুদেরও তাঁরা হারাতে সক্ষম হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে আরণ্যক নিজেকে কোথায় দেখেন, জানতে চাইলে তাঁর কণ্ঠে হতাশার সুর শোনা যায়। তিনি বলেন, “অনুপ্রাণিত বলার চেয়ে নিজেকে হতাশ বলব। কারণ আমি একটা সময় প্রায় ওদের সমকক্ষ ছিলাম। মাঝের সময়ে ব্যবধানটা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এটাই দুঃখের। আমি নিজেকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারিনি। ওরা হয়তো বেশি প্রতিভাবান। কিন্তু এতটা ব্যবধান হওয়ার কথা ছিল না।”
নিজের এই অনুভূতি প্রকাশ করলেও, আরণ্যকের চোখেমুখে আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। গ্র্যান্ডমাস্টার নর্ম অর্জন এবং আসন্ন বিশ্বকাপে ভালো ফল করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর এই নিরলস পরিশ্রম এবং মেধা তাঁকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দেবে বলেই আশা করা যায়।