শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত, পিতৃহারা সমর্থকের কাছা পরা আবেগ ছুঁয়ে গেল ডার্বির গ্যালারি

কলকাতা ফুটবল লিগের ডার্বি ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর সীমাহীন আবেগ। শনিবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু এদিন এই ডার্বি শুধু ফুটবলীয় দ্বৈরথেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এক পিতৃহারা সমর্থকের নিদারুণ আবেগ এবং তাঁর প্রিয় দলের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা ছুঁয়ে গেল দুই দলেরই হাজারো দর্শককে।
ময়দানের ফুটবল ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল না হলেও, অরুণ হালদার নামে এক ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের এই আত্মত্যাগ নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। সদ্য বাবাকে হারানোর শোক বুকে নিয়ে, গুরুদশায় কাছা পরেই তিনি গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন তার প্রিয় লাল-হলুদ ব্রিগেডকে সমর্থন জানাতে। তাঁর এই কাঁচা পরা ছবি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, এবং দুই দলের সমর্থকরাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। ইস্টবেঙ্গলের আনুষ্ঠানিক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকেও অরুণ হালদারের ছবি শেয়ার করে তাঁর গভীর আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এমনকি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সমর্থকরাও এই হৃদয়বিদারক অথচ অনুপ্রেরণামূলক ঘটনার প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।
অতীতেও ময়দানে এমন অনেক নজির দেখা গেছে, যেখানে প্রিয়জনকে হারানোর পরও সমর্থকরা শ্মশান থেকে সরাসরি মাঠে এসে দল বেঁধেছেন। সত্তরের দশকের বাঘাদা নামে এক ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের কাহিনি তো কিংবদন্তি হয়ে আছে— ছোট ছেলের মৃত্যুর পর সরাসরি শ্মশান থেকে তিনি ইস্টবেঙ্গল মাঠে ছুটে এসেছিলেন। অরুণ হালদারের এই ঘটনা সেই ঐতিহ্যকেই আরও একবার জীবন্ত করে তুলল।
ডার্বিতে কে খেলছেন?
মরসুমের প্রথম এই কলকাতা ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশে অভিজ্ঞ গোলকিপার দেবজিৎ মজুমদার যেমন ছিলেন, তেমনই প্রথমবারের মতো লাল-হলুদ জার্সি পরে ডার্বির মতো বড় ম্যাচে খেলতে নেমেছেন ডিফেন্ডার মার্তণ্ড রায়না। এছাড়া, লাল-হলুদ ব্রিগেডে ছিলেন প্রভাত লাকড়া, তন্ময় দাস, সুমন দে, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, এডমুন্ড লালরিনডিকা, ডেভিড লাললানসাঙ্গা, জেসিন টি কে, নাসিব রহমান ও বিক্রম প্রধান।
অন্যদিকে, মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের প্রথম একাদশে সুহেল আহমেদ ভাট, ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করা কিয়ান নাসিরি, দীপেন্দু বিশ্বাস, মহম্মদ বিলাল সি ভি, লিওয়ান কাস্টানহা, সন্দীপ মালিক, দীপ্রভাত ঘোষ, সালহাউদ্দিন আদনান কে, থংজম রোশন সিং, মিংমা শেরপা ও করণ রাই-এর মতো তারকারা ছিলেন। ডুরান্ড কাপের প্রস্তুতির মধ্যেই দুই দলই তাদের মূল দলের কয়েকজন খেলোয়াড়কে রিজার্ভ দলের সঙ্গে খেলিয়ে এই ডার্বিকে গুরুত্ব দিয়েছে।
তবে ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, অরুণ হালদারের এই বিরল আবেগ আর ভালোবাসার দৃষ্টান্ত শনিবারের ডার্বিকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। ফুটবলের প্রতি এক ভক্তের এমন নিস্বার্থ ভালোবাসা সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক।