হাসপাতালে গিয়েও হল না শেষ রক্ষা…! মাঠে যাওয়াই হলো কাল, বজ্রাঘাতে মৃত্যু গৃহবধূর

মাঠে ধান রোপণ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো এক গৃহবধূর। পুরুলিয়ার ঝালদা থানার গুরিডি গ্রামে গতকাল, বৃহস্পতিবার দুপুরে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। মৃত গৃহবধূর নাম সুমিত্রা মাহাতো (৪৫)। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, এবং পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত: মুহূর্তেই শেষ জীবন
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সুমিত্রা মাহাতো তার নিজের চাষের জমিতে আরও কয়েকজন মহিলার সঙ্গে ধান রোপণের কাজ করছিলেন। সে সময় আচমকাই আকাশ কালো করে বৃষ্টি শুরু হয় এবং তার মধ্যেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতের সাথে সাথেই সুমিত্রা দেবী ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ঝালদা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সুমিত্রা দেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই আকস্মিক ঘটনা এলাকার মানুষজনকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

পরিবারের শোক ও ক্ষতিপূরণের আর্তি
মৃতার ভাইপো ধীরেন্দ্রনাথ মাহাতো গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, “আমার কাকিমা মাঠে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হয়, আর তাতেই তার প্রাণ যায়। পরিবারের সকলেই এতে শোকোস্তব্ধ।” তিনি সরকারের কাছে তার পিসির মৃত্যুর জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এই কঠিন সময়ে পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পায়।

ঝালদা থানার পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সুমিত্রা মাহাতোর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া
এই মর্মান্তিক ঘটনা গুরিডি গ্রাম এবং তার আশেপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এলাকায় কৃষিকাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে জীবনহানির এই ঘটনা আবারও গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের ঝুঁকির দিকটি তুলে ধরল। সুমিত্রা মাহাতোর পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। তাদের কান্না ও আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই সময়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে, এমনটাই আশা করছে গ্রামবাসীরা।