অনেকক্ষণ ধরে বলছেন…সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে!’ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধমক দিয়ে বিচারপতির কড়া অবস্থান

কলকাতা হাইকোর্টে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায় ধৃত পুলিশ অফিসার রত্না চক্রবর্তীর জামিন আবেদনের শুনানিতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চরম বিরক্ত হয়ে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাস কক্ষেই মামলা ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। বিচারপতির এই কড়া অবস্থান রাজ্য রাজনীতি ও বিচার মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ও বিচারপতির ক্ষোভ
আজ (শুক্রবার) সকালে মামলার শুনানির সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালত ও বিচারপতি সম্পর্কে একাধিক মন্তব্য করেন, যা বিচারপতির ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “অনেকক্ষণ ধরে আদালত সম্পর্কে নানা মন্তব্য করছেন। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আপনার লেকচার আদালত শুনবে না। আমি এই মামলা ছেড়ে দিচ্ছি। অন্য কোনও বেঞ্চে যান।”
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন আদালত রত্না চক্রবর্তীর অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য একজন বিচারপতির (যিনি জামিনের মামলা শোনেন) নাম উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, “এরকম আচরণ উনিও করেন। আমাদের বিচারপতিদের কৃপার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এটাই দুর্ভাগ্য।”
এই মন্তব্যের পরই বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ চরম বিরক্ত হন। তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত পাল্টা ধমক দিয়ে বলেন, “কোর্ট এমন আচরণ বরদাস্ত করবে না।” এরপরই তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান।
শুনানির শুরু থেকে বিতর্কের সূত্রপাত
শুনানির শুরু থেকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন এবং প্রশ্ন তোলেন, চার বছর পর হঠাৎ কেন পুলিশ অফিসারকে গ্রেফতার করা হলো? বিচারপতি জানান যে, তিনি আগামী সপ্তাহ থেকে ১৫ দিনের জন্য সার্কিট বেঞ্চে থাকবেন, তাই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ দিন পর হবে। তিনি আরও বলেন, দ্রুত শুনানি চাইলে অন্য এজলাসে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, “এই মামলা আজই শেষ করে রায় দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এর মধ্যে অনেক আইনি দিক আছে।” এরপরও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য আবেদন করতে থাকেন, যা সম্ভবত বিচারপতির বিরক্তির আরও একটি কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিচারপতির এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন রত্না চক্রবর্তীর জামিন মামলার শুনানি হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে হবে। বিচারপতির এজলাস কক্ষে এমন কড়া মন্তব্য এবং মামলা ছাড়ার ঘটনা আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এটি আইনজীবী এবং বিচারকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও আদালতের মর্যাদা বজায় রাখার গুরুত্ব আবারও তুলে ধরল।