“ভাষা সন্ত্রাস বন্ধ হবে কি হবে না?”, বাঙালি শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে সরব মমতা

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার এবং ‘অবৈধ পুশব্যাক’-এর অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ভাষা সন্ত্রাস’ বন্ধের ডাক দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ভাষা সন্ত্রাস বন্ধ হবে কি হবে না?”

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাংলাভাষী বাসিন্দাদের গুরগাঁও, হরিয়ানাতে অত্যাচার করা হচ্ছে, আটকে রাখা হচ্ছে, এমন খবরের সংখ্যা বাড়ছে।” তিনি আরও জানান, রাজ্যের পুলিশ হরিয়ানার পুলিশের কাছ থেকে এ বিষয়ে রিপোর্ট পেয়েছে যে, পরিচয় জানার নামে বাংলাভাষীদের হয়রানি করা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন যে, রাজস্থান সহ অন্যান্য রাজ্য থেকে ‘অবৈধ পুশব্যাক’-এর খবরও বাড়ছে। যাদের বাংলার নাগরিক হিসাবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে, তাদের সরাসরি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমাদের আধিকারিকরা তাঁদের সেই যথাযথ নথির কপি পেয়েছেন।”

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, “ওই রাজ্যগুলিতে গরিব বাঙালি শ্রমিকদের উপর অত্যাচার আর অত্যাচার চলছে।” এই ধরনের ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি কেন্দ্রের ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, “বাঙালিদের উপর দেশের অন্য রাজ্যে থাকা ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে এই ধরনের ভয়াবহ অত্যাচারের কথা শুনে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। আপনারা কি প্রমাণ করতে চাইছেন? এটা ভয়াবহ। আমরা এটা সহ্য করব না। এই ধরনের ভাষা সন্ত্রাস বন্ধ করুন।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বাঙালি পরিচয়ের কারণে দেশের অন্য রাজ্যে বাংলাভাষীদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশি সন্দেহে তাদের আটক বা পুশব্যাক করা হচ্ছে বলে দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিল এবং তিনি এই ধরনের ‘ভাষা সন্ত্রাস’ বন্ধের জন্য সরব হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘ভাষা আন্দোলনের’ ডাকও দিয়েছেন, যা এই ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।