হারিয়ে যাওয়া টাকা ফেরালেন হাসপাতাল সুপার, বারাসাত হাসপাতালে মানবিকতার নজির, প্রশংসায় ভাসছে চিকিৎসক

হুগলির শ্রীরামপুরের শ্রমজীবী হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগের মধ্যেই, এক অন্যরকম মানবিকতার নজির স্থাপন করলেন বারাসাত মেডিক্যাল কলেজের সুপার ডঃ সুব্রত মণ্ডল। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বারাসাত হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নেওয়ার সময় তার কিছু অর্থ হারিয়ে যায়। এই খবর পেয়ে হাসপাতাল সুপার নিজেই সেই টাকা ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা সরকারি হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

কী ঘটেছিল?
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা বিধানসভার আওয়ালসিদ্ধি এলাকার বাসিন্দা, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এমডি ইমরান মণ্ডল বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) সকালে রক্ত নেওয়ার জন্য বারাসাত মেডিক্যাল কলেজের মেল মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পরেই ইমরানের ব্যাগে রাখা কিছু অর্থ রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায়।

ঘটনার পর হতবাক ও দিশেহারা ইমরান হাসপাতাল সুপার ডঃ সুব্রত মণ্ডলের কাছে লিখিতভাবে পুরো বিষয়টি জানায়। একজন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর এমন পরিস্থিতিতে টাকা হারানোর খবর শুনে ডঃ মণ্ডল অত্যন্ত উদ্যোগী হন।

সুপারের মানবিক উদ্যোগ: ব্যক্তিগত তহবিল থেকে টাকা ফেরত
হারিয়ে যাওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টার পাশাপাশি, ডঃ সুব্রত মণ্ডল ব্যক্তিগতভাবে একটি অসাধারণ মানবিক পদক্ষেপ নেন। তিনি ইমরানকে নিজের ঘরে ডেকে পাঠান এবং নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সেই হারিয়ে যাওয়া টাকা ফেরত দেন। দুস্থ পরিবারের এই ছাত্রের পাশে এভাবে দাঁড়ানোয় ইমরানের পরিবার হাসপাতাল সুপারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

ইমরানের পরিবারের সদস্যরা বলেন, “এই রকম মানবিকতা আমরা আশা করিনি। ডাক্তারের এমন ব্যবহার আমাদের মন জয় করে নিয়েছে।”

আস্থা বাড়াচ্ছে এই মানবিকতা
ঘটনা প্রসঙ্গে ডঃ সুব্রত মণ্ডল বলেন, “ওই ছেলেটির টাকা হারানোর ঘটনায় খুব খারাপ লেগেছিল। চেষ্টা করেছি ওর পাশে দাঁড়াতে।”

ডঃ মণ্ডল রোগী এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তা আজকের দিনে সরকারি হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করল বলেই মত হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত একাধিক রোগী ও আত্মীয়দের। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, চিকিৎসকরা কেবল রোগ নিরাময়ের কাজই করেন না, প্রয়োজনে মানবিকতার হাত বাড়িয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ান। তবে, চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা রোগী ও রোগীর পরিজনদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরও কড়া নজরদারি রাখার আশা রাখছেন জেলার সাধারণ মানুষ।