কলকাতায় ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে? জেনেনিন

পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া তার অপ্রত্যাশিত আচরণের জন্য পরিচিত এবং জুলাই মাসের এই সময়টিও তার ব্যতিক্রম নয়। আলিপুর আবহাওয়া দফতর এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ, বৃহস্পতিবার, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গে, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হওয়ায় এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তীব্র বর্ষণ হতে পারে।

কলকাতার আবহাওয়ার পূর্বাভাস

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, আজ কলকাতায় সকালে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও, দুপুরের পর থেকে মেঘের পরিমাণ বাড়বে এবং বিকেল নাগাদ বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২-৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। আর্দ্রতার মাত্রা ৮৫-৯০% হওয়ায় আবহাওয়া গরম ও অস্বস্তিকর থাকবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা ৬০-৭০% এবং কিছু কিছু এলাকায় ১০-১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া

এক্স প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই নিম্নচাপটি আজ থেকে শক্তি সঞ্চয় করবে এবং এর প্রভাবে আগামীকাল, শুক্রবার, দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ার মতো জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই জেলাগুলিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে, এবং ঝড়ো হাওয়ার ফলে গাছ উপড়ে যাওয়া বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি, যেমন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও সতর্কতা

ভারী বৃষ্টির কারণে কলকাতার নিম্নাঞ্চলগুলিতে জল জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে ট্র্যাফিকের সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে বেলেঘাটা, মানিকতলা এবং ইএম বাইপাসের আশেপাশে যানজট হতে পারে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এবং গাছের তলা এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি ক্ষেত্রে এই বৃষ্টি ধান, পাট এবং সবজি চাষের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে অতিরিক্ত বর্ষণ ফসলের ক্ষতি করতে পারে। মৎস্যজীবীদের বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারি উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং আলিপুর আবহাওয়া দফতর এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কলকাতা পৌরসভা জল নিষ্কাশনের জন্য পাম্পিং স্টেশনগুলি সক্রিয় করেছে এবং জরুরি পরিষেবা চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনগণকে আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করতে এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।