নীতীশ কুমার নন! উপরাষ্ট্রপতি হবেন দলের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত কোনো প্রবীণ নেতা : সূত্র BJP-র

উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক পদত্যাগ ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি ইস্তফার কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতাকে তুলে ধরলেও, এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা নিয়ে জল্পনা চলছে। এই আবহে বিজেপির শীর্ষ সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে যে, পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার তালিকায় জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার নন, বরং বিজেপিরই এক প্রবীণ নেতা এগিয়ে রয়েছেন।

গুঞ্জন খারিজ, দলের নেতার প্রতি আস্থা

সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে, আসন্ন বিহার নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপি তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমারকে উপরাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিবেচনা করতে পারে। কিন্তু বিজেপির এক শীর্ষ সূত্র এই জল্পনা সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি হবেন দলের আদর্শের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এমন কোনও ব্যক্তি।”

জেডিইউ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার মধ্যে সম্প্রতি একটি বৈঠক হওয়া নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে বিজেপি সূত্র এই জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, এটি ছিল একটি রুটিন আলোচনা এবং উপরাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে জেডিইউ নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি

এদিকে, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রধান প্রাক-ঘোষণামূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

১. লোকসভা ও রাজ্যসভার নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজের প্রস্তুতি।
২. রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের চূড়ান্ত করা।
৩. পূর্ববর্তী সব উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তথ্য এবং প্রচার সামগ্রী প্রস্তুত করা।

ধনখড়ের পদত্যাগের কারণ ও বিরোধীদের ভূমিকা

জগদীপ ধনখড়ের মেয়াদ ২০২৭ সালের আগস্টে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তাঁর আচমকা পদত্যাগ নিয়ে নানা তত্ত্ব সামনে আসছে। সরকারি সূত্রের মতে, তিনি একাধিকবার ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছেন। বিরোধী দলের অনাস্থা প্রস্তাব আসার পর সরকার অনুভব করে যে তিনি বিরোধী নেতাদের বেশি কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন। বিশেষ করে কৃষকদের বিষয়ে একটি জনসভায় তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে তাঁর প্রশ্ন করা ভালো চোখে দেখা হয়নি। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ধনখড় পদত্যাগ না করলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনাও ছিল।

তবে বিরোধীরা এখনও উপরাষ্ট্রপতি পদের জন্য কোনো নাম প্রস্তাব করেনি। এর আগে ১৬টি উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্যে মাত্র ৪টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়েছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, বিরোধীরা সম্ভবত পরে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে।