‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে প্রতারণা! বেঙ্গালুরুতে দুই মহিলাকে নগ্ন করে লাখ টাকা লুট ভুয়ো পুলিশের

এবার দেশের ‘টেক সিটি’ হিসাবে পরিচিত বেঙ্গালুরুতেই ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনা ঘটল। সাইবার প্রতারকরা শারীরিক পরীক্ষার নাম করে দুই মহিলাকে ক্যামেরার সামনে নগ্ন হতে বাধ্য করে এবং হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারকরা প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে ভুয়ো পুলিশ সেজে তাঁদের ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে রেখেছিল।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৭ জুলাই। বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী এক মহিলার বাড়িতে তাঁর এক বান্ধবী এসেছিলেন। সেই সময় হঠাৎই তাঁদের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা প্রতারক নিজেকে মুম্বইয়ের কোলাবা থানার পুলিশ আধিকারিক বলে পরিচয় দেয়। সে জানায়, ওই দুই তরুণীর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। এরপর প্রতারক তাঁদের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জাল নথি পাঠায়। স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
অভিযোগ উঠেছে যে, গ্রেপ্তারি এড়াতে প্রতারক তাঁদের কাছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা দাবি করে। শুধু তাই নয়, শারীরিক পরীক্ষার নামে তাঁদেরকে ক্যামেরার সামনে নগ্ন হতে বাধ্য করা হয়। দুই মহিলার বয়ান অনুযায়ী, তাঁদেরকে মোট ৯ ঘণ্টা ধরে মানসিক ভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। গত শনিবার এই দুই মহিলা বেঙ্গালুরুর পূর্ব সিইএন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় এই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। দুই মহিলার মধ্যে একজন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী এবং অপরজন যোগ শিক্ষক। পুলিশ অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষ থেকে ডিজিটাল অ্যারেস্টের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা ব্যাপকভাবে সামনে আসছে। সাইবার অপরাধীরা সিবিআই, ইডি কিংবা অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার নাম করে মানুষকে ফোন করে ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সাইবার প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই ধরনের ঘটনার খবর আসতেই থাকছে। এই নতুন ঘটনাটি আরও একবার সাইবার সুরক্ষার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।