বাঁকুড়ায় প্রতিবাদ, বাংলাভাষীদের ওপর নির্যাতন ও ভোটাধিকার হরণের চেষ্টার বিরুদ্ধে বাম শ্রমিক সংগঠনগুলি

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী মানুষদের উপর ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্যাতনের প্রতিবাদে বুধবার বাঁকুড়ায় সরব হলো বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলি। একইসঙ্গে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তীব্র ধিক্কার জানানো হয়।
এদিন সকালে বিভিন্ন বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল বাঁকুড়া শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে বাঁকুড়া স্টেশন মোড়ে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাভাষীদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ:
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী মানুষজনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। তাদের ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দিয়ে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। বক্তারা এই ধরনের বিভাজনের রাজনীতির তীব্র নিন্দা করেন এবং এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বৃহত্তর প্রতিরোধের ডাক দেন।
ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ:
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির রাজনৈতিক অভিসন্ধি পূরণের জন্য কাজ করছে। বিহারের ৭১ লক্ষ সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কোটি কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান হয়। তাদের দাবি, এটি গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের একটি বড় চক্রান্ত। বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব, কিন্তু কমিশন সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।
বক্তাদের বক্তব্য:
এদিনের প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন CITU-এর প্রতীপ মুখার্জি, উজ্জ্বল সরকার, ও তপন দাস; AITUC-এর ভাস্কর সিংহ ও সঞ্জু বরাট; AICCTU-এর বাবলু ব্যানার্জি; UTUC-এর সুনীল পাত্র ও শান্তনু অধূর্য্য; এবং বাঁকুড়া জেলা লরি ড্রাইভারস অ্যান্ড ক্লিনার্স ইউনিয়নের সত্য মুখার্জি। তারা সকলেই এই দুটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান জানান। তারা বলেন, ধর্ম, জাত, ভাষার নামে মানুষকে ভাগ করার রাজনীতি দেশের সংহতি ও গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলি ইঙ্গিত দেয় যে, বাম শ্রমিক সংগঠনগুলি শুধু শ্রমিকদের অধিকার নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়েও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে বদ্ধপরিকর।