৫৭ লক্ষ টাকার সোনার বিস্কুট উদ্ধার, শোরগোল পড়ে গেলো ঘটনায়

চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে পূর্ব রেলের ‘অপারেশন সতর্ক’ (Operation Satark) আবারও বড় সাফল্য পেল। ২২শে জুলাই, মঙ্গলবার নদিয়ার রানাঘাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে একটি চোরাচালান চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ৫৮৩ গ্রাম ওজনের পাঁচটি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫৭,৬৮,৭৮৫ টাকা।
সূত্রের খবর, রানাঘাটগামী গেদে-রানাঘাট লোকাল ট্রেনে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF)। ট্রেনটি রানাঘাট স্টেশনে পৌঁছানোর পর আরপিএফ কর্মীরা তাকে আটক করে এবং তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে তার কাছে লুকিয়ে রাখা পাঁচটি সোনার বিস্কুট পাওয়া যায়। চোরাচালানকারীকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হয় এবং বাজেয়াপ্ত করা সোনা সহ তাকে রানাঘাটের শুল্ক বিভাগের (Customs) কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ‘অপারেশন সতর্ক’ নামক বিশেষ অভিযানটি চোরাচালান এবং অবৈধ কার্যকলাপ রুখতে বিশেষভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের আওতায় বিভিন্ন স্টেশন ও ট্রেনে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান চক্রকে নির্মূল করা যায়।
উল্লেখ্য, এই বছরের মার্চ মাসেও শিয়ালদা স্টেশন থেকে এমনই একটি বড়সড় সোনা পাচারের চেষ্টা বানচাল করেছিল আরপিএফ। বনগাঁ লোকাল থেকে নামার সময় রাহুল সাঁতরা নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যার কাছ থেকে প্রায় ৪০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয়। সেই সোনার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে আরপিএফ শিয়ালদা স্টেশনে ওঁত পেতে ছিল এবং যুবকটি ট্রেন থেকে নামতেই তাকে পাকড়াও করে। ওই যুবক পেট্রাপোলের খালিদপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিল।
সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলগুলো দিয়ে সোনা পাচারের চেষ্টা চলছে এবং পূর্ব রেলের আরপিএফ কর্মীরা তাদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ রুখতে বদ্ধপরিকর।