২৬ শের ভোটে দাঁড়াতে ‘চয়েজ’ চান দিলীপ, লোকসভা ভোটের হার নিয়ে যা বললেন?

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে, ততই রাজ্য রাজনীতিতে নিজের অবস্থান জোরদার করতে শুরু করেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। খড়গপুরে ২১ জুলাইয়ের সভায় যোগ দেওয়ার পর ফের পরিষ্কার হয়ে গেল, তাঁর চোখ এবার মেদিনীপুর কেন্দ্রেই। প্রার্থী ঘোষণা না হলেও প্রচারে নামার মতো সক্রিয়তা ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে তাঁর মধ্যে।

দলকে পরোক্ষে বার্তা দিলীপের

বুধবার দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি কোনও দিন প্রার্থী হতে চাইনি, দলই দিয়েছে। তিনবার ভোটে দাঁড়িয়েছি। দু’বার আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল কোথা থেকে দাঁড়াতে চাই, আমি বলেছিলাম—একবার খড়গপুর, আরেকবার মেদিনীপুর। দু’বারই জিতেছি। কিন্তু শেষবার কোনও চয়েস চাওয়া হয়নি। তার ফল সবাই দেখেছেন।”

এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে একটি পরোক্ষ বার্তা হিসেবে—চয়ন করলে আমার কথাই শুনুন।

বর্ধমান-দুর্গাপুরে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে দিলীপ ঘোষকে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করে বিজেপি। সেখানে তিনি পরাজিত হন তৃণমূলের কীর্তি আজাদের কাছে। এরপর প্রকাশ্যে তিনি অভিযোগ করেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আমাকে হারের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।” ওই ঘটনার পর থেকেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দিলীপের দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল বলে রাজনৈতিক শিবিরে গুঞ্জন।

রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন পাতা

তবে রাজ্য বিজেপিতে নেতৃত্ব বদলের পর আবার দিলীপ ঘোষকে ঘিরে আলোচনার ঝড়। নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর দিলীপ ঘোষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। দিল্লিতে জেপি নাড্ডার সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনায় বসেছেন দিলীপ। সবমিলিয়ে, আবার তাঁকে সামনে এনে রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় করে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে বিজেপি।

প্রার্থী তালিকা নয়, কিন্তু প্রচার শুরু

দিলীপ ঘোষ এখনও প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত না হলেও মেদিনীপুর জেলায় নিয়মিত কর্মসূচি পালন করছেন। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করছেন, আবার তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি কটাক্ষও ছুঁড়ে দিচ্ছেন ধারাবাহিকভাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষ যতই ঘুরিয়ে বলুন না কেন, তাঁর লক্ষ্য এখন একটাই—২০২৬-এ মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়া। আর সেটাই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে।