মাল্টিপ্লেক্সে বসে দেখুন মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ, জেনে নিন কীভাবে টিকিট মিলবে ডার্বির?

বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার কলকাতা লিগের ঐতিহাসিক ডার্বির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে ত্রিপুরায়। মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট ও ইস্টবেঙ্গলের হাইভোল্টেজ ম্যাচ এবার দেখা যাবে আগরতলার এক মাল্টিপ্লেক্সে— সিনেমার বড় পর্দায়! বাংলা ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা আইএফএ এমন অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে যাতে প্রতিবেশী রাজ্যের বাঙালি ফুটবলপ্রেমীরাও ডার্বির রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারেন।

কলকাতা থেকে আগরতলায় ‘ফুটবল উৎসব’
আগামী শনিবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কলকাতা লিগের ডার্বি। সেখানে টিকিটের অপ্রতুলতা (মাত্র ৮ হাজার সাধারণ টিকিট) ও সীমিত দর্শকসংখ্যার সুযোগ থাকায় আইএফএ এবার ত্রিপুরায় সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আয়োজিত হচ্ছে আগরতলার এমএল প্লাজার এসএসআর সিনেমা হলে। সহযোগিতায় রয়েছে ফুটবল সম্প্রচারের স্বত্বাধিকারী অ্যাপ এসএসইএন।

এই উপলক্ষে কলকাতা থেকে আগরতলায় উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভারতের দুই প্রাক্তন ফুটবল তারকা— আলভিটো ডি’কুনহা এবং রহিম নবিকে। তাঁরা উপস্থিত থাকবেন স্ক্রিনিং-এর বিশেষ অনুষ্ঠানে, যা গোটা উদ্যোগে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

টিকিটের দাম সাধ্যের মধ্যে
মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে গেলে যেখানে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অবধি খরচ হয়, সেখানে এই ফুটবল ডার্বির স্ক্রিনিংয়ের টিকিট রাখা হয়েছে মাত্র ৫০, ১০০ ও ১৫০ টাকা। সহজলভ্য মূল্যেই যাতে আরও বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন, সেজন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

মাঠে প্রবেশের সুযোগ সীমিত, তাই পর্দার আয়োজন
কল্যাণী স্টেডিয়ামে এবার নিরাপত্তার কারণে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন মাত্র ১০ হাজার দর্শক। তার মধ্যে আট হাজার টিকিট ছাড়া হয় সাধারণ দর্শকদের জন্য, যার অধিকাংশই ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। মোহনবাগান গ্যালারির নির্দিষ্ট ব্লক ‘বি’, ‘সি’ ও ‘এ’-র টিকিট একেবারে শেষ। ইস্টবেঙ্গলের জন্য নির্ধারিত ব্লকে কিছুটা টিকিট এখনও অবশিষ্ট আছে, তবে আইএফএ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই সেগুলিও শেষ হয়ে যাবে।

প্রথমবার মাল্টিপ্লেক্সে ঘরোয়া ডার্বি
সিনেমা হলে আন্তর্জাতিক বা আইএসএল ম্যাচ দেখানো নতুন নয়, কিন্তু কলকাতা লিগের মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ডার্বি ম্যাচ সিনেমার পর্দায় দেখানো এই প্রথম। আর তাও বাংলার বাইরে! এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে বাংলা ফুটবলের প্রসারে এক নতুন দিগন্ত খুলবে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

আইএফএ চাইছে, মাঠের বাইরেও ডার্বির আবেগ ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র। ত্রিপুরায় এই উদ্যোগ সফল হলে, ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলেও এমন আয়োজন হতে পারে। কলকাতা লিগের ডার্বিকে ঘিরে তাই এবার উত্তেজনা শুধু শহরে সীমাবদ্ধ থাকছে না, পৌঁছে যাচ্ছে সীমান্ত পেরিয়ে নতুন রাজ্যে।