পুরুষদেরও গর্ভনিরোধক পিল আসছে শীঘ্রই, ট্রায়ালে হলো সফল, কবে থেকে বাজারে?

পরিবার পরিকল্পনায় এবার পুরুষদের জন্য বড় সুখবর। বিজ্ঞানীরা সফলভাবে তৈরি করেছেন একটি নতুন গর্ভনিরোধক বড়ি, যা এবার আর নারীদের একচেটিয়া দায়িত্ব নয়। নতুন এই ওষুধের নাম YCT‑529, এবং এটি পুরুষদের জন্য হরমোন‑বিহীন নিরাপদ গর্ভনিরোধক হিসেবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ২২ জুলাই ২০২৫ সালে প্রকাশিত ‘কমিউনিকেশনস মেডিসিন’ জার্নালের গবেষণা থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে।

YCT‑529 একটি বিশেষ প্রোটিন, ‘রেটিনোইক অ্যাসিড রিসেপ্টর আলফা’-র কার্যকারিতা দমন করে। সাধারণভাবে এই প্রোটিন ভিটামিন-এ এর সাহায্যে শুক্রাণু তৈরিতে সাহায্য করে। কিন্তু YCT‑529 ব্যবহারে ওই প্রক্রিয়াই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পুরুষদের মধ্যে প্রজননক্ষমতা সাময়িকভাবে থেমে যায়। ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে ফের উর্বরতা ফিরে আসে।

পরীক্ষায় কতটা সফল?
প্রথম ধাপে ১৬ জন ভ্যাসেকটমি করা পুরুষের ওপর ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালানো হয়। পরীক্ষার্থীরা খালি পেটে ও খাবারের পর দুই অবস্থাতেই ওষুধটি গ্রহণ করেন। ৯০ মিলিগ্রাম এবং ১৮০ মিলিগ্রাম ডোজে পরীক্ষা চালানো হয়। দেখা গেছে, ১৮০ মিলিগ্রাম ডোজ সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কোনও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি— মেজাজ, যৌন ইচ্ছা বা ওজনের ওপরও কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

সামনে কী?
বর্তমানে ২৮ ও ৯০ দিনের বড় পরিসরের ট্রায়াল চলছে, যেখানে শুক্রাণুর পরিমাণ ও গর্ভধারণের সম্ভাবনা কীভাবে কমে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। গবেষকরা আশাবাদী, সবকিছু ঠিকঠাক চললে ২০৩০ সালের মধ্যেই বাজারে আসতে পারে এই ওষুধ।

ভারতের প্রেক্ষিতে এর তাৎপর্য
ভারতের মতো দেশে এখনও জন্মনিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত মহিলাদের ওপর বর্তায়—চাকরি, সংসার, মাতৃত্বের চাপে অনেক সময় তাঁদের পক্ষে গর্ভনিরোধক গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে পুরুষদের জন্য নিরাপদ, হরমোনবিহীন এবং বিপরীতযোগ্য এই পদ্ধতি একটি সমানাধিকারমূলক ও বাস্তবসম্মত বিকল্প এনে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, YCT‑529 পুরুষদের পরিবার পরিকল্পনায় আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে, এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা ঘটাবে।