কুকুর কামড়ানোর রেকর্ড ২০২৪-এই ৩৭ লক্ষ পার, জলাতঙ্কে ৫৪ জনের মৃত্যু! কেন্দ্রের চমকে দেওয়া রিপোর্ট

ভারতের শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত পথকুকুরদের বাড়বাড়ন্ত এবং তাদের কামড়ানোর ঘটনা যে এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তা এবার সরকারি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার মঙ্গলবার লোকসভায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, চলতি ২০২৪ সালে এখনও পর্যন্ত ৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষকে কুকুর কামড়েছে! এর মধ্যে উদ্বেগের বিষয় হলো, ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এঁরা সকলেই জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর দেশজুড়ে পথকুকুরদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের ঢেউ উঠেছে।

কেন্দ্রে প্রকাশিত ভয়াবহ চিত্র:

কেন্দ্রের মৎস্য, পশুপালন ও ডেয়ারি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এসপি সিংহ বাঘেল মঙ্গলবার লোকসভায় এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোলের (NCDC) অধীনস্থ ন্যাশনাল রেবিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের (NRCP) আওতায় রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে এই হিসেব সংগ্রহ করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৭ লক্ষ ১৭ হাজার ৩৩৬ জনকে কুকুরে কামড়েছে, যার মধ্যে ৫৪ জনের জলাতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

দায় কার? সমাধানের পথ কী?

প্রতিমন্ত্রী বাঘেল লোকসভায় স্পষ্ট করেন যে, পথকুকুরদের নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এলাকার পৌরসভার। তিনি আরও জানান যে, পথকুকুরদের নির্বীজকরণে ‘অ্যানিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’ (ABC) চালু রয়েছে। তাঁর কথায়, “পথকুকুরদের নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।”

১৯৬০ সালের ‘পশুদের উপর হিংস্র আচরণ প্রতিরোধ’ আইনে ২০২৩ সালে ‘পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন’ আনা হয়। এই আইনের আওতায় পথকুকুরদের নির্বীজকরণ এবং অ্যান্টি-রেবিজ টিকা প্রদানের উপর জোর দেয় কেন্দ্র। কিন্তু এত আইন ও কর্মসূচির পরেও কেন পরিস্থিতি আয়ত্তে আসছে না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ: ‘আর উপেক্ষা করা যায় না’

এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম পথকুকুরদের এই ক্রমবর্ধমান উপদ্রব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “বিষয়টি আর উপেক্ষা করা যায় না।” তাঁর এই মন্তব্য জনমনে জমে থাকা ক্ষোভকেই যেন উসকে দিয়েছে।

পথকুকুরদের আক্রমণ এবং জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এক জনস্বাস্থ্যগত সংকটের আকার ধারণ করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের উপর কুকুরের হামলার ঘটনা, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও নিয়মিতভাবে সংবাদ শিরোনামে আসছে। এই পরিস্থিতিতে, শুধু আইন বা কর্মসূচি নয়, বরং তার সঠিক এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উপরই নির্ভর করছে লক্ষ লক্ষ মানুষের নিরাপত্তা। সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে এই বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, অন্যথায় এই ‘সাইলেন্ট কিলার’ অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।