#MeToo-এর মুখ ‘তনুশ্রী দত্ত’ নিজের বাড়িতেই হেনস্থার শিকার…কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী!

বছর কয়েক আগে ভারতের #MeToo আন্দোলনকে যিনি প্রথম জনসমক্ষে এনেছিলেন, সেই অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত আবারও এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ নিয়ে সামনে এসেছেন। এবার তিনি নিজের বাড়িতেই হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন, যা প্রকাশ পেয়েছে তাঁরই পোস্ট করা এক মর্মস্পর্শী ভাইরাল ভিডিওতে। হাউহাউ করে কাঁদতে দেখা গেছে তাঁকে, যা দেখে শিউরে উঠেছেন নেটিজেনরা। এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলছে, সমাজের কাঠামো কতটা প্রস্তুত এমন পরিস্থিতিতে একজন আক্রান্তের পাশে দাঁড়াতে।

ভাইরাল ভিডিওতে আর্তনাদ:

‘আশিক বনায়া আপনে’ খ্যাত তনুশ্রী দত্ত নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন, তাতে তাঁকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলছেন, “আমার নিজের বাড়িতেই আমি হেনস্থার শিকার হচ্ছি। আমি শুধু পুলিশকে ফোন করেছি। তারা আমাকে থানায় আসতে বলেছে সঠিক অভিযোগ জানাতে। আমি হয়ত আগামীকাল বা পরশুদিন থানায় যাব। আমি ভাল নেই। আমি ভাল নেই। আমাকে বিগত ৪-৫ বছর ধরে এত হেনস্থা করা হয়েছে…”

ভিডিওটির ক্যাপশনে তনুশ্রী লিখেছেন, “আমি এই হেনস্থায় ক্লান্ত, ক্লান্ত! ২০১৮ সাল থেকে এটা চলছে। #meToo আজ অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে আমি পুলিশকে ফোন করেছি। দয়া করে কেউ আমাকে সাহায্য করুন।” তার এই আর্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং বহু মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন।

শারীরিক ও মানসিক ধকল:

অভিনেত্রী জানান, এই লাগাতার মানসিক চাপের কারণে তাঁর স্বাস্থ্যেরও অবনতি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি কোনও কাজ করতেই পারছি না। আমার পুরো ঘর অগোছালো হয়ে পড়ে আছে। আমার বাড়িতে পরিচারকও রাখতে পারি না কারণ আগে পরিচারকের সঙ্গে আমার খুবই খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

#MeToo-এর পর কী?

২০১৮ সালে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনে তনুশ্রী দত্ত ভারতের #MeToo আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন। সেই সময় সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এলেও, বহু নারী তাঁদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খোলার সাহস পেয়েছিলেন। তবে তনুশ্রীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, একজন অভিযোগকারীকে দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের মানসিক ও সামাজিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়।

যে অভিনেত্রী একদিন সাহস করে মুখ খুলেছিলেন, আজ তিনি নিজের বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ঘটনা শুধু তনুশ্রী দত্তের ব্যক্তিগত লড়াই নয়, এটি সমাজের প্রতি এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন ছুড়ে দিচ্ছে। #MeToo আন্দোলন কি কেবল সাময়িক আলোড়ন তুলেছিল, নাকি এটি সত্যিই ভুক্তভোগীদের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে পেরেছে? তনুশ্রী দত্তের এই নতুন অভিযোগের পর পুলিশ প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং সমাজ কীভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।