অমরনাথ যাত্রা! ১৯ দিনে ৩ লক্ষ ভক্তের দর্শন, জম্মু থেকে রওনা আরো ভক্তের দল

শ্রাবণ মাসের সবচেয়ে শুভ দিন শ্রাবণ শিবরাত্রির ঠিক আগে, অমরনাথ যাত্রা ২০২৫ তার ১৯তম দিনে প্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) জম্মু থেকে আরও ৩ হাজার ৫৩৬ জন তীর্থযাত্রীর একটি নতুন দল পবিত্র গুহার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩ জুলাই শুরু হওয়া এই যাত্রা এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং গত ১৯ দিনে ৩.২১ লক্ষেরও বেশি ভক্ত বাবা বরফানির দর্শন করেছেন।

আজ জম্মুর ভগবতী নগর যাত্রী নিবাস থেকে দুটি নিরাপত্তা কনভয়ে করে তীর্থযাত্রীদের নতুন দলটি উপত্যকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রথম বহরে ১,২৫০ জন তীর্থযাত্রী ৪৮টি গাড়ি নিয়ে বালতাল বেস ক্যাম্পের দিকে ভোর ৩.৩৩ মিনিটে রওনা হয়। দ্বিতীয় বহরে ২,২৮৬ জন তীর্থযাত্রী ৮৪টি গাড়ি নিয়ে ভোর ৪.০৬ মিনিটে পহেলগাম বেস ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার তীর্থযাত্রী এই দুই বেস ক্যাম্পে ভিড় জমাচ্ছেন।

কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে যাত্রা
চলতি বছরের অমরনাথ যাত্রা ২২ এপ্রিল পাহলগামের বৈসরন মাঠে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত হামলার পর শুরু হয়েছে, যেখানে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ যাত্রার জন্য বহু-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সেনাবাহিনী, বিএসএফ, সিআরপিএফ, এসএসবি এবং স্থানীয় পুলিশের বিদ্যমান সদস্য সংখ্যার পাশাপাশি সিএপিএফ-এর ১৮০টি অতিরিক্ত কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। এই বছর সেনাবাহিনী তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ৮,০০০-এরও বেশি বিশেষ কমান্ডো মোতায়ল করেছে।

‘ছড়ি মুবারক’ যাত্রা ও সমাপ্তি
গত ১০ জুলাই, পহেলগামে ‘ছাড়ি মুবারক’ (ভগবান শিবের পবিত্র লাঠি) পূজা করা হয়। ছড়ি মুবারকের একমাত্র রক্ষক মহন্ত স্বামী দীপেন্দ্র গিরির নেতৃত্বে একদল সাধু শ্রীনগরের দশনামী আখড়া ভবন থেকে ছড়ি মুবারককে পহেলগামে নিয়ে যান। পহেলগামে এটি গৌরী শঙ্কর মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে ভূমি পূজা সম্পন্ন হয়।

এরপর ছড়ি মুবারককে দশনামী আখড়া ভবনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ৪ আগস্ট শ্রীনগরের দশনামী আখড়া মন্দির থেকে গুহা মন্দিরে এর চূড়ান্ত যাত্রা শুরু হবে এবং ৯ আগস্ট শ্রাবণ পূর্ণিমার দিন পবিত্র গুহা মন্দিরে পৌঁছাবে, যা এই ৩৮ দিনের যাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে।

তীর্থযাত্রীরা কাশ্মীর হিমালয়ের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৮৮৮ মিটার উঁচুতে অবস্থিত পবিত্র গুহা মন্দিরে পৌঁছাতে ঐতিহ্যবাহী পাহালগাম পথ অথবা ছোট বালতাল পথ ব্যবহার করেন। পাহালগাম পথে চন্দনওয়ারী, শেষনাগ এবং পঞ্চতরণী হয়ে গুহা মন্দিরে পৌঁছাতে পায়ে হেঁটে ৪৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয় এবং প্রায় চার দিন সময় লাগে। অন্যদিকে, ছোট বালতাল পথ ব্যবহার করে ১৪ কিলোমিটার হেঁটে গুহা মন্দিরে পৌঁছানো যায় এবং দর্শনের পর একই দিনে বেস ক্যাম্পে ফিরে আসা যায়। নিরাপত্তার কারণে, এই বছর তীর্থযাত্রীদের গুহা মন্দিরে পৌঁছাতে পায়ে হেঁটে ১৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে; কোনো হেলিকপ্টার পরিষেবা উপলব্ধ নেই।