জগদীপ ধনখড়ের ইস্তফা মঞ্জুর, জেনেনিন প্রধানমন্ত্রী মোদী কী বললেন?

দীর্ঘ জল্পনা ও আলোচনার মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তার এই আকস্মিক পদক্ষেপে দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডলে আবেগঘন বার্তা দিয়ে জগদীপ ধনখড়ের সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন এবং দেশের সেবায় তার অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।
এক্স হ্যান্ডল পোস্টে নরেন্দ্র মোদী লেখেন, ‘জগদীপ ধনখড়জি দেশের সেবা করার একাধিক সুযোগ পেয়েছেন। তিনি দেশের উপরাষ্ট্রপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর সুস্থতা কামনা করছি।’
সোমবার ২১শে জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে জগদীপ ধনখড় পদত্যাগ করেন। তার এই সিদ্ধান্ত বিরোধী দলগুলোকেও হতবাক করে দিয়েছে। সত্যিই কি ধনখড়ের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে স্বাস্থ্যের অবনতি, নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। পদত্যাগের সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, যা সকলের মনেই খটকা তৈরি করেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কার্যালয়ে কিছু রহস্যজনক গতিবিধি দেখা গেছে, যা ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্রের খবর, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিজেপি সাংসদ বলেছেন, “সাদা কাগজে সই করানো হয়েছিল।” যদিও তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি, যা জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, তিনি সোমবার সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। সে সময় ধনখড় নিজের পরিবারের সঙ্গে ছিলেন এবং জানান যে তিনি মঙ্গলবার কথা বলবেন। এর আগে বিকেল ৫টা নাগাদ জয়রাম রমেশ, প্রমোদ তিওয়ারি এবং অখিলেশ প্রসাদ সিং ধনখড়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। জয়রাম রমেশের দাবি, সে সময় সবকিছু ঠিকঠাকই মনে হয়েছিল। এমনকি বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠক নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।
জানা গেছে, বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রথম বৈঠক ছিল সোমবার দুপুর ১২:৩০ মিনিটে, যেখানে অনেক দলের অনেক সাংসদই উপস্থিত ছিলেন। জেপি নাড্ডা এবং কিরেণ রিজিজুও যোগ দিয়েছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, আরও বেশ কিছু আলোচনার জন্য সেটি ফের বিকেল ৪:৩০ মিনিটে ডাকা হবে। তবে বিকেলের মিটিংয়ে ওই দুই ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে দেখা যায়নি। তাদের বদলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এল মুরুগান সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মুরুগান পরের দিন এই বৈঠক ফের ডাকার জন্য জগদীপ ধনখড়ের কাছে আর্জি রেখেছিলেন। ফলে সূত্র মারফত জানা গেছে, সোমবার দু’বার বৈঠক হলেও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠক ছিল নিষ্ফলা।
জগদীপ ধনখড়ের এই আকস্মিক পদত্যাগ এবং এর পেছনের রহস্যজনক ঘটনাপ্রবাহ ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার স্বাস্থ্যের অবনতিই কি একমাত্র কারণ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কাজ করছে, তা নিয়েই এখন সর্বত্র প্রশ্ন।