“৪ বছরে বিক্রি মোট ১.৬৩ কোটি”-সবজি বিক্রেতাকে ২৯ লক্ষ টাকার GST নোটিস

কর্ণাটকের হাভেরিতে এক সাধারণ সবজি বিক্রেতাকে ২৯ লক্ষ টাকার জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা কর) বকেয়া থাকার নোটিস পাঠানো হয়েছে, যা সারা দেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শঙ্করগৌড়া হাদিমানি নামের ওই আনাজ বিক্রেতা রাস্তার ধারে একটি ছোট ঠেলায় সবজি বিক্রি করেন এবং তার পক্ষে এত বিপুল অঙ্কের টাকা পরিশোধ করা অসম্ভব বলে তিনি দাবি করেছেন।
শঙ্করগৌড়া হাভেরির একটি মাঠের পাশে বিগত চার বছর ধরে সবজি বিক্রি করছেন। তার বেশিরভাগ ক্রেতাই ইউপিআই (UPI) বা অন্যান্য ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে বিল পরিশোধ করেন। সম্প্রতি জিএসটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি একটি চিঠি পেয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে গত চার বছরে তার মোট ১.৬৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এবং এর ফলে তার ২৯ লক্ষ টাকা জিএসটি বকেয়া রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শঙ্করগৌড়া জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে আনাজ কিনে নিজের ছোট দোকানে বিক্রি করেন। তার দাবি, তিনি প্রতি বছরই নিয়মিতভাবে নিজের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য দাখিল করেন। কিন্তু এখন ২৯ লক্ষ টাকার জিএসটি বকেয়ার নোটিস পেয়ে তিনি সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।
আনাজে জিএসটি লাগু হয় কি?
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, খোলা বাজারে প্যাকেটজাত নয় এমন যে আনাজ বিক্রি হয়, তাতে সাধারণত জিএসটি লাগু হয় না। যদি কোনো বিক্রেতা চাষিদের কাছ থেকে আনাজ কিনে কোনো রকম প্রক্রিয়াকরণ না করে বা প্যাকেটজাত না করে বিক্রি করেন, তাহলে তার উপর জিএসটি প্রযোজ্য হয় না। এই নীতি অনুযায়ী, শঙ্করগৌড়ার ক্ষেত্রে জিএসটি লাগু হওয়ার কথা নয়, যা এই নোটিসকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
ডিজিটাল পেমেন্টের উপর জিএসটি দপ্তরের নজর:
সম্প্রতি ইকনমিক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, কর্ণাটকের জিএসটি দপ্তর ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের ওপর কড়া নজর রাখছে। জিএসটি নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবসার ক্ষেত্রে বার্ষিক টার্নওভার একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের নিচে থাকলে জিএসটি রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হয় না। তবে চলতি বছরের ১২ই জুলাই জিএসটি দপ্তর ঘোষণা করে যে, যাদের টার্নওভার নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করবে এবং তারা যদি নথিভুক্ত হয়ে কর পরিশোধ না করেন, তাহলে তাদের নোটিস পাঠানো হবে।
এই ঘোষণার পর থেকেই বহু সংখ্যক ছোট ব্যবসায়ী শঙ্কিত। ১৭ই জুলাই কর্ণাটকের জিএসটি দপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে দাবি করেছে যে, নজরদারি এড়াতে অনেকেই ডিজিটাল পেমেন্টের পরিবর্তে নগদে লেনদেন করছেন। সেক্ষেত্রেও কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জিএসটি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন যে, জিএসটি-এর চাপে তাদের ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। শঙ্করগৌড়ার এই ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।