ভোটার তালিকা সংশোধনে ECI-এর কড়া অবস্থান! ভোটার ID নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, সুপ্রিম-এ কমিশনের হলফনামায়

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আধার কার্ড, সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র বা রেশন কার্ড— কোনোটিই ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। ফলে এই নথিগুলি ভোটার তালিকায় নাম থাকার বাধ্যতামূলক প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন বিরোধীরা ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু ভারতীয় নাগরিকের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলছেন। যদিও কমিশন শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে যে, তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হল “ভারতের নাগরিক নন এমন ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া” এবং নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫ অনুযায়ী তাদের এই ক্ষমতা রয়েছে।

কমিশন সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, বিহারের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার তাদের আছে। তাদের এই পদক্ষেপ আবেদনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে, কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছে।

‘বৈষম্য’র অভিযোগ ও কমিশনের যুক্তি:
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু নাম ছাঁটাই করার অভিযোগের জবাবে কমিশন বলেছে, যখন ভোটার রেজিস্ট্রেশন অফিসার দেখেন কোনো ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্তির যোগ্য নয়, তখনই তাঁর নাম বাদ যায়। এক্ষেত্রে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ হচ্ছে না বলেও কমিশন দাবি করেছে।

তবে, আধার কার্ডের মতো সর্বজনীনভাবে ব্যবহৃত একটি পরিচয়পত্রকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে অস্বীকার করা এবং একইসঙ্গে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়ার উপর জোর দেওয়া, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করেছে, যা এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।