‘হিন্দু মহিলাদের আরও সন্তানের জন্ম দিতে হবে!’ ভেল্লাপল্লি নেতেশনের মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

কেরলের প্রভাবশালী হিন্দু এঝাভা সম্প্রদায়ের নেতা ভেল্লাপল্লি নেতেশন সম্প্রতি কেরলে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। কোট্টায়মে একটি সভায় তিনি মন্তব্য করেন, “কেরল খুব শিগগিরই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে পরিণত হতে পারে। হিন্দু নারীরা সন্তান জন্ম দেওয়া কমিয়ে দিলে তা বিপজ্জনক।” এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

নেতেশন তাঁর বক্তৃতায় হিন্দুদের প্রতি আরও বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া এবং রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি কেরলের ক্ষমতাসীন এলডিএফ (LDF) ও বিরোধী ইউডিএফ (UDF) উভয় জোটের বিরুদ্ধেই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন। শ্রী নারায়ণ ধর্ম পরিপালন যোগমের এক নেতৃত্ব বৈঠকে তিনি বলেন, “যদি হিন্দু এঝাভারা একজোট হয়, তাহলে কেরলের শাসক কে হবেন, তা আমরাই নির্ধারণ করব।”

ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণায় প্রশ্ন:
নেতেশন কটাক্ষ করে বলেছেন যে, “এই দেশ এখন আর সেক্যুলার নেই।” এর সপক্ষে তিনি সম্প্রতি কেরলের শিক্ষা দফতর কর্তৃক স্কুলের সময়সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ এবং মুসলিম সংগঠন সমস্থা-র ওনাম ও বড়দিনের ছুটি কমানোর অনুরোধের মধ্যেকার বিরোধের উল্লেখ করেন।

তিনি প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভিএস অচ্যুতানন্দন-এর একটি পুরোনো মন্তব্য স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল ২০৪০ সালের মধ্যে কেরল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে পরিণত হবে। নেতেশনের দাবি, এই পরিবর্তন প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ঘটছে। তিনি বিধানসভা আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের উদাহরণ দিয়ে বলেন, আলাপ্পুঝায় হিন্দুদের সন্তানসংখ্যা কমে যাওয়ায় দুটি আসন কমেছে, অন্যদিকে মলপ্পুরমে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে চারটি আসন বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি হিন্দু নারীদের উদ্দেশে “সন্তান জন্ম দেওয়া কমিয়ে দিও না” বলে আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসেও নেতেশন মলপ্পুরম জেলাকে ‘আলাদা দেশ’ আখ্যা দিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন। তার এ ধরনের মন্তব্য সাম্প্রদায়িক বিভাজন বাড়ানোর প্রবণতা এবং কেরলের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সম্প্রীতির সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এই মন্তব্যের জেরে কেরলে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।