OMG! ব্যাঙ্কের শূন্য খাতায় জমা হলো কয়েক লক্ষ টাকা, মিউল অ্যাকাউন্টের ফাঁদে বাংলার যুবক

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে এক দরিদ্র দিনমজুরের কলেজ পড়ুয়া ছেলের জিরো ব্যালেন্স ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, যার জেরে হিমালয় প্রদেশের সিমলা আদালত থেকে সমন পেয়েছেন তিনি। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় গোটা পরিবারের ঘুম উড়ে গেছে। সোমবার এ বিষয়ে বালুরঘাট সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ওই পড়ুয়া।
জানা গেছে, পেশায় দিনমজুর অমল বাস্কের ছেলে সুব্রত কলেজে পড়াশোনার সুবাদে শহরের চকভৃগু এলাকায় বাড়ি ভাড়া করে থাকেন। সেখানেই তার পরিচয় হয় পাশের ঘরের রাজমিস্ত্রি মাইকেল টুডুর সঙ্গে। কলেজ কর্তৃপক্ষ সুব্রতকে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে বললে, টাকার অভাবে সুব্রত বিপাকে পড়েন। তখন মাইকেল সুব্রতকে একটি জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট খুলে দেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে যে, অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও, মাইকেল টুডু সুব্রতকে তার পাসবুক ও এটিএম কার্ড দেননি। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এরই মধ্যে, ব্যাঙ্ক থেকে সুব্রতকে তার জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এই খবর শুনে সুব্রত হতবাক হয়ে যান।
সিমলা আদালতের সমন ও পরিবারের অসহায়তা:
সুব্রত অভিযোগ করেন যে, ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের নিজের অসহায় অবস্থার কথা জানালেও তারা কর্ণপাত করেননি। এরপরেই বাস্কে পরিবারের কাছে ২৬শে জুলাই হিমাচল প্রদেশের সিমলা আদালতে সুব্রতকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ জানিয়ে একটি চিঠি আসে। চিঠিতে সুব্রতকে কীভাবে তার জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন হলো, তার প্রমাণসহ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই চিঠি পাওয়ার পর সুব্রত আরও বিপাকে পড়েন।
ওই কলেজ পড়ুয়া বলেন, “৫০০ টাকা না থাকায় মাইকেলের কথামতো জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট খুলেছিলাম। কিন্তু ব্যাঙ্কের পাসবুক আর এটিএম কার্ড ও রেখে দেয়। অনেকবার বললেও দেয়নি। এরপরেই ব্যাঙ্কের সতর্কবার্তা আর তারপরে সিমলা আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়ে সমন এল। কীভাবে অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
ছাত্রের বাবা অমল বাস্কে অসহায় কণ্ঠে বলেন, “দিনমজুরি করে সংসার চালাই। এতকিছু বোঝার ক্ষমতা নেই আমাদের। ছেলের নামে সিমলা আদালত থেকে সমন এসেছে। কী করব বুঝতে পারছি না।”
‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ এবং সাইবার প্রতারণা:
সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ আইনজীবী রঞ্জন পান্ডে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের আরও বেশি সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ব্যাঙ্ক ও পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষেরও উচিত গ্রাহকদের সচেতনতা বাড়ানো।”
বিষয়টি নিয়ে ডিএসপি সদর বিক্রম প্রসাদ বলেন, “ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া (মিউল অ্যাকাউন্ট) করার প্রবণতা বাড়ছে। আর এর মাধ্যমেই ঘটছে সাইবার প্রতারণা। এ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু স্কুলে সচেতনতা শিবির করা হয়েছে। এ বারে গ্রামাঞ্চলের মানুষদের জন্য পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা বাড়াবার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
মিউল অ্যাকাউন্ট কী?
‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো ব্যক্তি অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন করে। এই ধরনের অ্যাকাউন্ট সাইবার অপরাধীরা ব্যবহার করে নিজেদের আসল পরিচয় গোপন রাখতে চায়। বাইরে থেকে জমা পড়া টাকার উপর কমিশন দেওয়ার প্রদেয় অর্থ হিসেবে আসল অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের কাছ থেকে এরকম ব্যাঙ্ক খাতা ভাড়া নেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বুঝতে না পেরে লোভের ফাঁদে পা দিয়ে বসেন, যার ফলস্বরূপ তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যায় এবং আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন।
কুমারগঞ্জে ব্যাপক আতঙ্ক:
এদিকে, কুমারগঞ্জে গত ৪ দিনে ৬টি চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনাগুলো সাইবার প্রতারণা এবং স্থানীয় অপরাধ চক্রের ক্রমবর্ধমান হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।