খড়গপুর আইআইটি’তে ফের ছাত্রমৃত্যু, ৪ দিনে ২জন! শোকস্তব্ধ ক্যাম্পাস

চারদিন আগে এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষত এখনও দগদগে। এর মধ্যেই ফের শোকের ছায়া খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসে। গতকাল সোমবার রাতে চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ খেতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারালেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র চন্দ্রদীপ পাওয়ার। এই নিয়ে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই খড়গপুর আইআইটিতে পাঁচজন মেধাবী পড়ুয়ার মৃত্যু ঘটল, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও ছাত্র মনস্তত্ত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

পুলিশ ও আইআইটি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ আইআইটি খড়গপুরের বিসি রায় হাসপাতালে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা চন্দ্রদীপ (ডি-৪০৮, নেহেরু হল) রাতের খাবার খাওয়ার পর জ্বর-সর্দির ওষুধ খাচ্ছিলেন। সেই সময় অসাবধানতাবশত ট্যাবলেটটি তাঁর শ্বাসনালীতে আটকে যায়, যার ফলে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। দ্রুত তাকে ক্যাম্পাসের বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

জেলা পুলিশের এক আধিকারিক এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “শ্বাসনালীতে ওষুধ আটকে আইআইটি খড়গপুরের এক পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। ক্যাম্পাসে অবস্থিত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা তথা সিপিআর দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসা চলাকালীনই ওই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। আজ মঙ্গলবার মেদিনীপুর মেডিক্যালে ময়নাতদন্ত হবে।”

উল্লেখ্য, গত শুক্রবারই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ঋতম মণ্ডলের ঝুলন্ত দেহ তাঁর রুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ঘটা এই দ্বিতীয় মৃত্যু আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এর আগে চলতি বছরের প্রথম চারজন মৃত ছাত্রের ক্ষেত্রেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ায় আত্মহত্যার তত্ত্ব উঠে আসে। কেন এত ঘনঘন শিক্ষার্থীরা এমন চরম পদক্ষেপ করছে, তা জানতে প্রতিটি হোস্টেলেই একটি করে স্টুডেন্টস টাস্ক ফোর্স তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইআইটি খড়গপুর। তবে এই সর্বশেষ ঘটনাটি আকস্মিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়ায় শোকের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই মৃত চন্দ্রদীপের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।