CPIM-এর শারীরিক অত্যাচারের পরেও কীভাবে এখনও ফিট মমতা? ২১শের মঞ্চে জানালেন নিজেই

এবারের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে আক্রমণ করলেও, তাঁর নিশানায় ছিল সিপিআইএম-ও (CPIM)। বামেদের হাতে তিনি মার খেয়েছিলেন, একথা ফের একবার স্মরণ করিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি সিঙ্গুরে লড়াই করেছি, নন্দীগ্রামে লড়াই করেছি, ২১ জুলাই লড়াই করেছি। আপনারা জানেন তো ১৯৯০ সালে বামপন্থী বন্ধুরা আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন হাজরার মোড়ে। আমার মাথা ফাটিয়ে চৌচিড় করে দিয়েছিল। মারতে মারতে আমার গোটা শরীরটা ভেঙে দিয়েছিল।”

শারীরিক অত্যাচারের পরেও তিনি কীভাবে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তারও ব্যাখ্যা দেন মমতা নিজেই। তিনি বলেন, “শুধু হাঁটি আর এক্সারসাইজ করি বলে আজও আমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি।”

দিনটি ছিল ১৯৯০ সালের ১৬ অগাস্ট। হাজরা মোড়ে তৎকালীন কংগ্রেসের যুবনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল সিপিআইএম যুবনেতা লালু আলমের বিরুদ্ধে। মমতা সিপিআইএম-এর বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ করেন। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং মাথা ফেটে যায়। সেদিন কংগ্রেসের ডাকা বনধের সমর্থনে হাজরা মোড়ে রাস্তায় নেমেছিলেন তৎকালীন যাদবপুরের সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনই সিপিআইএম-এর যুবনেতা লালু আলম ও তাঁর দলবলের হাতে তিনি আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। গুরুতর আঘাতের পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দীর্ঘ দিন চিকিৎসা চলে।

এই হামলার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বাম-বিরোধী রাজনীতির প্রধান শিরোনামে চলে আসেন। তাঁকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলাও চলতে থাকে। ১৯৯৪ সালে একবার সাক্ষ্যও দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু বাম সরকারের আমলে এই মামলায় তেমন গতি আসেনি। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর এই মামলায় গতি আনার চেষ্টা করা হয়। তবে সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রায় সবাই ততদিনে প্রয়াত হয়েছিলেন। চার্জশিটে নাম থাকা ১২ জনের মধ্যে লালু আলম ছাড়া বাকিরা হয় মৃত, নয়তো পলাতক। ২০১৯ সালে অভিযুক্ত লালু আলমও শেষ পর্যন্ত বেকসুর খালাস পান। মমতার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে এই পুরনো ঘটনার স্মৃতিচারণ আবারও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।