“প্রণব মুখার্জিকে রাষ্ট্রপতি করার সময় বিরোধিতা করেছিলেন”-মমতাকে কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ‘বাঙালি স্বার্থ রক্ষা’ বিষয়ক মন্তব্য নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তৃণমূলনেত্রীর বাঙালি প্রীতির দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে অভিযোগ তোলেন, “বাংলা ভাষার উনি কে? যেদিন প্রণব মুখোপাধ্যায়কে রাষ্ট্রপতি করার কথা হয়েছিল, বাঙালিকে, সেদিন প্রথম বিরোধিতা উনি করেছিলেন।” শুভেন্দুর এই মন্তব্য ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতার তোলা অভিযোগের সরাসরি জবাব বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

২১শে জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এর জবাবেই শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা বলেন, “উনি যে পার্টিকে গালাগালি করেন, সেই পার্টিটাই বাঙালি প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন বাঙালি, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বাঙালি।” এর মাধ্যমে শুভেন্দু বোঝাতে চেয়েছেন যে বিজেপি বাঙালি বিদ্বেষী নয়, বরং বাঙালি প্রতিভাকে সম্মান করে।

শুধুমাত্র বাঙালি প্রীতি নিয়েই নয়, এদিন আবারও ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ’-এর ইস্যুতে তৃণমূলনেত্রীকে আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা। সোমবার বিজেপির যুব মোর্চার ডাকা ‘উত্তরকন্যা অভিযান’-এর মঞ্চ থেকেও শুভেন্দু অভিযোগ করেছিলেন, “বাংলাদেশি মুসলিম আর রোহিঙ্গাদের মমতা আঁচলে লুকোতে দিচ্ছেন। বিহারের মতো ভোটার তালিকার বিশেষ সমীক্ষা এ রাজ্যেও চাই।” এর মাধ্যমে তিনি অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে এনে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক পক্ষই যে প্রচারে কোমর বেঁধে নেমেছে, তা স্পষ্ট। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কর্মীদের নতুন স্লোগান দিয়েছেন, “আমাদের দর্শন, বিজেপির বিসর্জন।” এর মাধ্যমে তিনি বিজেপিমুক্ত বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে, শিলিগুড়ির সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন, “চ্যালেঞ্জ করছি ২০২৬-এ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করব। আমি চ্যালেঞ্জ করছি আপনাকে।”

শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমা এবং সরাসরি চ্যালেঞ্জ আগামী দিনে বঙ্গ-রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বাঙালি আবেগ, অনুপ্রবেশ, এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ—সব মিলিয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা বজায় থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।