উত্তাল সংসদ, উপরাষ্ট্রপতি ধনখড়ের আচমকা ইস্তফা ঘিরে ঘনীভূত রহস্য!

সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই যেন বোমা ফাটালেন দেশের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়! সোমবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় ‘স্বাস্থ্যের অবনতি’র কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও, এই পদক্ষেপের নেপথ্যে আদৌ স্বাস্থ্য, না কি গভীরতর রাজনৈতিক রহস্য লুকিয়ে রয়েছে – তা নিয়ে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। বিরোধীপক্ষ থেকে শুরু করে শাসক দলের অন্দরেও এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে রীতিমতো হতবাক সবাই।

স্বাস্থ্য নাকি রাজনীতি? প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির:
সরকারি বিবৃতিতে স্বাস্থ্যের কারণ দেখানো হলেও, ঘটনার সময়রেখা এবং ধনখড়ের সারাদিনের কার্যকলাপ ঘিরে প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিরোধী নেতারা। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ দাবি করেছেন, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যখন তাঁর সঙ্গে ধনখড়ের ফোনে কথা হয়, তখন তিনি পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন এবং পরদিন আবার কথা বলার প্রতিশ্রুতি দেন। এর মাত্র ঘণ্টাখানেক আগেই, বিকেল ৫টার মধ্যে প্রমোদ তিওয়ারি, জয়রাম রমেশ এবং অখিলেশ প্রসাদ সিং-এর মতো শীর্ষ বিরোধী নেতারা ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, সেই সময় ধনখড়ের শরীর-স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল এবং ইস্তফার বিন্দুমাত্র ইঙ্গিতও তিনি দেননি। বরং বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠক নিয়েই আলোচনা করছিলেন তিনি।

‘সাদা কাগজে সই’ বিতর্কে রাজনাথের দফতর!
ঘটনার মোড় আরও ঘুরিয়ে দিয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের অফিস ঘিরে ওঠা এক চাঞ্চল্যকর দাবি। সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যায় রাজনাথের দফতরে দফায় দফায় বৈঠক হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি সাংসদ তো বলেই ফেললেন, “সাদা কাগজে সই করানো হয়েছিল!” যদিও ওই বৈঠকে ধনখড় উপস্থিত ছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল তুঙ্গে। ইস্তফার আগে ধনখড় বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ২৫ মিনিটের একটি ঘরোয়া বৈঠকও করেছিলেন বলে জানা গেছে।

ইমপিচমেন্ট নোটিশের সঙ্গে যোগসূত্র?
ঘটনার সময়ক্রম আরও রহস্যময়। সোমবার দুপুর ২টার পর লোকসভার প্রায় ১০০ জন বিরোধী সাংসদ বিচারপতি বীরেন্দ্র কুমার ভার্মার ইমপিচমেন্টের জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেন। এরপর বিকেল ৪টা ৭ মিনিটে ধনখড় নিজেই জানান, ৬৩ জন সাংসদের স্বাক্ষরসহ নোটিশ জমা পড়েছে এবং তিনি সেটি গ্রহণ করেছেন। এমনকি সকলকে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। এরপরেও তিনি একাধিক বিরোধী সাংসদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু তার ঠিক এক ঘণ্টা পরেই, সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে তাঁর ইস্তফার খবর আসে। সারাদিনের কার্যকলাপে বা আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল না, এমনকি অধিবেশন চলাকালীনও তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কোনও ছাপ দেখা যায়নি।

বৃহত্তর রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত?
সবকিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন – এ কি নিছকই স্বাস্থ্যগত কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত? নাকি ২০২৬ সালের আগে রাজ্যসভার পূর্ণ গঠন এবং আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর প্রভাব বিস্তারের মতো কৌশলগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড় পালাবদলের ইঙ্গিত? রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে ধনখড় অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিশেষ করে বিচারপতির ইমপিচমেন্টের মতো গুরুতর সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকাকালীন এমন আচমকা ইস্তফা নিছক কাকতালীয় হতে পারে না বলেই মনে করছেন অনেকেই।