“ঘরের টাকা পেলেও ঘর হলো না কেন?”-অভিযুক্ত ৩০০, থানায় দায়ের হলো অভিযোগ

গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র মানুষের মাথার ওপর ছাদ নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড়লেও, বহু উপভোক্তা এখনও ঘর তৈরির কাজ শুরু করেননি। এই গাফিলতির বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে কোচবিহার জেলা প্রশাসন। জানা গেছে, জেলা জুড়ে প্রায় ৩০০ জন উপভোক্তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যারা প্রকল্পের টাকা হাতে পেয়েও কাজ ফেলে রেখেছেন।

রাজ্য সরকার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের টাকা মাস ছয়েক আগেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি ঘর তৈরির জন্য উপভোক্তারা দু’কিস্তিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা এবং মে মাসে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?

কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলাশাসক (পঞ্চায়েত) সৌমেন দত্ত রবিবার জানিয়েছেন, “টাকা নিয়ে যাঁরা ঘরের কাজ এখনও শুরু করেননি, প্রথমে তাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তারপরেও কাজ শুরু না করায় একেবারে এফআইআর করে দেওয়া হয়েছে। সংখ্যাটা ৩০০ জনের মতো।” সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্লক প্রশাসন থেকে এই অভিযোগ স্থানীয় থানায় দায়ের করা হয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক হইচই পড়ে গেছে।

প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, কোচবিহার জেলায় সব মিলিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার মানুষকে আবাস যোজনার ঘর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। যদিও অনেক উপভোক্তা লিন্টেল পর্যন্ত ঘরের কাজ সময়মতো করেননি, যার কারণে তাঁদের টাকা দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছিল। বারবার নোটিস পাঠানো এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে অনেক বাড়ির কাজ শুরু হয়েছে।

ভিন রাজ্যে কর্মরতদের গাফিলতি:

তবে, ৩০০ জন উপভোক্তা এখনও পর্যন্ত কাজই শুরু করেননি। বিশেষ সূত্রে খবর, এই উপভোক্তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ ভিন রাজ্যে কাজ করেন। প্রথম কিস্তির টাকা হাতে পাওয়ার পর তাদের সিংহভাগই কাজে ফিরে গেছেন এবং বাড়ির কাজ ফেলে রেখেছেন। এমনকি অনেকে দু’কিস্তির টাকা পাওয়ার পরও কাজ ফেলে রেখেছেন।

জেলা প্রশাসনের তরফে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। শুধুমাত্র কোচবিহার-২ ব্লকেই ৪০ জনের মতো উপভোক্তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। অন্যান্য ব্লকেও কমবেশি একই চিত্র। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং এই কড়া পদক্ষেপের পর প্রকল্পের কাজ কতটা ত্বরান্বিত হয়।