“বাংলায় নাকি দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজো করতে দিই না”-২১ শের মঞ্চে বড় ঘোষণা করলেন মমতা

২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ সমাবেশের মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ ধর্ম এবং সংস্কৃতিকে ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগের জবাব দিলেন। বিরোধীরা একসময় তাঁকে বাংলায় দুর্গাপূজা বা সরস্বতী পূজা করতে দেন না বলে যে অভিযোগ তুলত, সেই প্রসঙ্গে তিনি কড়া জবাব দিলেন এবং নিজের সরকারের আমলে ধর্মস্থান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন।

আজ ধর্মতলার সুবিশাল জনসভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একসময় বলত, বাংলায় নাকি আমি দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজো করতে দিই না।” এই উক্তি বিজেপিসহ বিরোধী দলগুলির পুরনো অভিযোগের প্রতি ইঙ্গিত করে, যারা তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘তুষ্টিকরণ’-এর রাজনীতি এবং হিন্দু ধর্মের প্রতি উদাসীনতার অভিযোগ তুলত।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরপরই কড়া জবাব দিয়ে বলেন, “এখন আপনাদের ‘জয় মা দুর্গা’ বলতে হচ্ছে।” তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বাংলার সংস্কৃতি এবং দুর্গাপূজার প্রতি তাঁর সরকারের অবিচল সমর্থন এবং ইউনেস্কো স্বীকৃতি পাওয়ার মতো সাফল্য দেখে বিরোধীরাও এখন ‘জয় মা দুর্গা’ স্লোগান দিতে বাধ্য হচ্ছে। এটি এক প্রকার বিরোধীদের ‘ভাষা পরিবর্তন’ এবং বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচিতির কাছে তাদের ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছেন মমতা।

ধর্মস্থান উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি জগন্নাথ ধাম করেছি, বাংলায় দুর্গা অঙ্গন করে দেব।” এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন পুরীতে জগন্নাথ ধামের আদলে বাংলায় একটি ধর্মস্থান তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেমনই অন্যদিকে দুর্গাপূজার মহিমাকে কেন্দ্র করে একটি ‘দুর্গা অঙ্গন’ তৈরির প্রতিশ্রুতু দিয়েছেন। এটি বাংলার সনাতন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রতি তাঁর এবং তাঁর দলের গভীর শ্রদ্ধার বার্তা দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভাষণ একদিকে যেমন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্মভিত্তিক অপপ্রচারের জবাব, তেমনই অন্যদিকে তিনি বাংলার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচিতির রক্ষক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। এই বার্তা আগামী দিনে রাজ্যের ভোটব্যাঙ্কে কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।