রাস্তায় মৃত্যু, রণক্ষেত্রে যশোর রোড! অবহেলার অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা

সোমবার সকাল থেকে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হল উত্তর ২৪ পরগণার অন্যতম ব্যস্ত যশোর রোড। ভোররাতে এক যুবকের মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রতিবাদে রাস্তায় নামল স্থানীয় জনতা, যার জেরে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে স্তব্ধ হয়ে যায় কলকাতার অন্যতম প্রধান এই সংযোগকারী সড়কের যান চলাচল। ২১শে জুলাইয়ের ধর্মতলা অভিমুখী তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের যাত্রাও এই অবরোধের কারণে বড়সড় ধাক্কা খেল।

ভোররাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বিয়েবাড়ি থেকে ফিরছিলেন সাতাশ বছর বয়সী এক যুবক। মধ্যমগ্রামের নজরুল সরণি এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগামী ভ্যান তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ ওই যুবক রাস্তায় পড়েছিলেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার সময় আশপাশে সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনও রকম তৎপরতা দেখায়নি। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এই দুর্ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পুলিশের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে তারা মুহূর্তেই যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ক্ষুব্ধ জনতা একটি ট্র্যাফিক বুথেও ভাঙচুর চালায়। এই অবরোধের জেরে অফিস টাইমে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। কলকাতার দিকে যাওয়া একের পর এক বাস আটকে পড়ে, এমনকি ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া তৃণমূল কর্মীদের গাড়িও দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে।

পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার, প্রশ্ন নিরাপত্তা নিয়ে:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছান মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ এবং বারাসতের এসডিপিও। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে প্রায় দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় নিত্যযাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যে ভ্যানটি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে তার চালককে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, আহত যুবক কেন দীর্ঘক্ষণ সাহায্য পাননি এবং সেই সময় কর্তব্যরত পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, এই রাস্তায় প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ট্র্যাফিক পুলিশের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনা আবারও শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোতে পথচারীদের নিরাপত্তা এবং পুলিশের দ্রুত সাড়ার সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।