সংসদে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জয়ধ্বনি, ঐক্যের ছবি দেখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলো আজ। বাদল অধিবেশনের সূচনাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সামরিক অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করলেন এবং বিশ্ব দরবারে পাকিস্তানের মুখোশ উন্মোচনে ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধি দলের ভূমিকারও গুণগান করলেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘অপারেশন সিঁদুর’ দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতিকে একাট্টা করেছে। এবার সাংসদদের মধ্যেও সেই ঐক্যের ছবি দেখার আহ্বান জানালেন তিনি।

বাদল অধিবেশনের প্রারম্ভিক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ১০০ শতাংশ সফল। ভারতীয় সেনার ক্ষমতা এবং বীরত্ব বিশ্ব দেখেছে, এবার সংসদের নেতাদেরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। তিনি বলেন, এই বাদল অধিবেশন আসলে বিজয়ের উদযাপন। সারা বিশ্ব ভারতের সামরিক শক্তির ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করেছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী যে লক্ষ্য স্থির করেছিল, তা ১০০ শতাংশ সফল হয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদী নেতাদের দুর্গ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পহেলগাঁওয়ের নৃশংস সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং গণহত্যা সমগ্র বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সময় দলীয় স্বার্থকে সরিয়ে রেখে, দেশের স্বার্থে, সংসদ থেকে বেশিরভাগ দলের প্রতিনিধিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। “দেশ ঐক্যের শক্তি দেখেছে। তাই সংসদের সব সাংসদ, এই ঐক্যকে এগিয়ে নিয়ে যান। আমি অবশ্যই বলব যে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব অ্যাজেন্ডা আছে, নিজস্ব ভূমিকা আছে, কিন্তু আমি এই বাস্তবতা মেনে নিচ্ছি… দলের মত না মিলতে পারে, তবে দেশহিতে সবার মন যেন মেলে,” দৃঢ় কণ্ঠে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে, এবারের বাদল অধিবেশনে পহেলগাঁও হামলা নিয়ে বিরোধীরা বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈসরণ ভ্যালির মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে কীভাবে সন্ত্রাসবাদীরা এতক্ষণ ধরে নির্বিঘ্নে পর্যটকদের খুন করল, নিরাপত্তার কোথায় ঘাটতি ছিল, কেন গোয়েন্দাদের কাছে আগাম খবর পৌঁছাল না – এই সমস্ত বিষয়ে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলতে পারে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য যেখানে দেশের ঐক্য ও সামরিক শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে, সেখানেই পহেলগাঁওয়ের ঘটনা সরকারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।