প্রথম স্ত্রী থাকাকালীন কি দ্বিতীয় স্ত্রীর ভরণপোষণ নেওয়া যাবে স্বামীর? যা জানাল হাইকোর্ট

গার্হস্থ্য হিংসা আইনে স্বামী-স্ত্রীর ভরণপোষণের ক্ষেত্রে প্রথম এবং দ্বিতীয় বিয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মার বেঞ্চ গতকাল এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন, তাহলে তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের দায় অস্বীকার করতে পারেন না। নিজের দ্বিতীয় স্ত্রীর ভরণপোষণের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এক ব্যক্তি দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির সময় উচ্চ আদালতের বিচারপতি এই মন্তব্য করেন।
আবেদনকারী স্বামী যুক্তি দিয়েছিলেন যে এটি তার দ্বিতীয় বিবাহ এবং তার প্রথম বিবাহ থেকেও সন্তান রয়েছে। তবে আদালত তার আদেশে উল্লেখ করেছে যে আবেদনকারী স্বেচ্ছায় পুনরায় বিয়ে করেছেন এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের গ্রহণ করেছেন। এমতাবস্থায়, নিজের আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে দ্বিতীয় স্ত্রীর ভরণপোষণ এড়িয়ে যেতে পারেন না তিনি। আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেছে যে, ভরণপোষণ এড়িয়ে যেতে দ্বিতীয় বিবাহকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
দুই পক্ষের দাবি তুলে ধরে আদালত জানায়, ওই মহিলা আদালতকে জানিয়েছিলেন যে ১৯৮৭ সালে তাঁর প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই দুই ছেলেকে বড় করে তুলছিলেন। সেই সময়, এই মামলার আবেদনকারী ব্যক্তি তাঁকে তাঁর সন্তানদের যত্ন এবং পিতার স্নেহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আদালতে আবেদনকারী স্বামী দাবি করেছিলেন যে তাঁর স্ত্রী স্বেচ্ছায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং ফিরে আসার বা পুনর্মিলনের কোনো চেষ্টাও করেননি। এই আবহে দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তার সন্তানদের ভরণপোষণের দায় থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন আবেদনকারী সেই ব্যক্তি।
তবে দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, স্ত্রী প্রথম হোক বা দ্বিতীয়, গার্হস্থ্য হিংসা আইনের আওতায় উভয় স্ত্রীই খোরপোষের অধিকারী। এই রায় দ্বিতীয় বিবাহ সংক্রান্ত ভরণপোষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।