কলকাতায় মমতার ‘বাঙালি হেনস্থা’ প্রতিবাদ! মুহূর্তেই পাল্টা জবাব শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভোট পরবর্তী উত্তাপ এখনো বহমান। ‘বাঙালি হেনস্থা’ এবং ‘বাংলাদেশী’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে আজ কলকাতা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল, যেখানে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। একদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বাঙালিদের হেনস্থার’ প্রতিবাদে পথে নামেন, অন্যদিকে তার পাল্টা মিছিলে শুভেন্দু অধিকারী রোহিঙ্গা মুসলিমদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিস্ফোরক দাবি তোলেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
মমতার ‘বাঙালি হেনস্থা’ প্রতিবাদ:
আজ সকালে, ‘বাঙালিদের হেনস্থা’র প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। এই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিল থেকে তিনি বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন, অভিযোগ করেন যে বিজেপি বাংলায় ‘বিভাজনের রাজনীতি’ করছে এবং বাঙালিদের উপর অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। “বাংলায় সমস্যা তৈরি করলে সারা দেশ ঘুরে জবাব দেব,” এই হুঙ্কার দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি বিজেপির এই নীতির বিরুদ্ধে আপস করবেন না। তাঁর এই প্রতিবাদ মূলত কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে রাজ্যের আত্মমর্যাদার লড়াইকে তুলে ধরেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
শুভেন্দুর পাল্টা মিছিল: ‘রোহিঙ্গা’ তাস:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলের ঠিক পরেই, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপিও কলকাতায় পাল্টা মিছিল বের করে। এই মিছিল থেকে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল এবং বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করেন। তাঁর আক্রমণের মূল সুর ছিল ‘বাংলাদেশী’ এবং ‘রোহিঙ্গা’ ইস্যু।
মিছিলে শুভেন্দু অধিকারী বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “ভোটার লিস্ট থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাদ দিতে হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মমতা রোহিঙ্গাদের স্বার্থে পথে নেমেছে।” শুভেন্দুর এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন যে, তৃণমূল সরকার কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে, যা রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এই মন্তব্যগুলি শুধু তৃণমূলকে আক্রমণ নয়, বরং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারদের মেরুকরণের একটি প্রচেষ্টা বলেও অনেকে মনে করছেন।
রাজনৈতিক উত্তাপের নতুন অধ্যায়:
আজকের এই দুই মিছিল এবং দুই শীর্ষ নেতার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘জাতিসত্তা’ এবং ‘বহিরাগত’ বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের ‘বাঙালি সত্তা’কে রক্ষা করার বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ এবং ‘রোহিঙ্গা’ ইস্যুকে সামনে এনে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছেন।
এই ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই ধরনের বিতর্ক আরও তীব্র হবে। একদিকে তৃণমূল তাদের ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগানকে আরও জোরালো করবে, অন্যদিকে বিজেপি ‘অনুপ্রবেশ’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র বিষয়টিকে জনসমক্ষে আনবে। দুই প্রধান দলের এই মুখোমুখি অবস্থান রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।