শুনতেও হবে না, ‘তোরটা কবে খাব’! নতুন ব্যবসা ‘ফেক ওয়েডিং’? টিকিট কাটলেই বিয়েবাড়ির ভরপুর আনন্দ!

ব্যস্ত শহুরে জীবনে যেখানে পরিবার ক্রমশ ছোট হচ্ছে এবং নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ কমে আসছে, সেখানে একাকীত্ব ও সামাজিকতার অভাব মেটাতে এক নতুন ‘ট্রেন্ড’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে – ‘ফেক ওয়েডিং’ বা নকল বিয়ে। সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই বিষয়টি কি কেবলই একঘেয়েমি কাটানোর উপায়, নাকি একটি লাভজনক ব্যবসা? এই প্রশ্ন এখন দেশের বড় বড় শহরগুলিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
দিল্লি, বেঙ্গালুরু, পুনের মতো শহরগুলিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ‘ফেক ওয়েডিং’। এর মূল ধারণাটি বেশ সরল: একটি সাজানো বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া, যেখানে পাত্র-পাত্রী বা আমন্ত্রিত কেউই আসল নন, বা একে অপরের পরিচিত নন। এটি সম্পূর্ণ একটি অভিনয়, যেখানে মন্ত্রপাঠ থেকে শুরু করে সমস্ত আচার-আচরণও নিয়ম মেনেই হয় – কিন্তু এর কোনটিই সত্যি নয়। মূলত বিয়েবাড়ির আনন্দ উপভোগ করার সহজ উপায় এটি, যেখানে পার্টির মজা, জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া, নাচ-গান এবং হই-হুল্লোর সবই থাকে।
কেন এই ‘ফেক ওয়েডিং’ ট্রেন্ড?
অনেক অবিবাহিত যুবক-যুবতী, বিশেষ করে যারা বিবাহযোগ্য বয়সে রয়েছেন, তারা বিয়েবাড়িতে গেলেই “তোরটা কবে খাব?”-এর মতো কমন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে ক্লান্ত। ব্যক্তিগত জীবনে অন্যের এই ধরনের হস্তক্ষেপ অনেকেরই পছন্দ নয়। এই ‘বিরক্তি’ এড়াতে বা সাময়িকভাবে এড়িয়ে যেতেই কি এই ‘ফেক ওয়েডিং’ এর আশ্রয়?
এছাড়াও, শহুরে জীবনে যারা নতুন এসেছেন বা দীর্ঘদিন ধরে বাস করছেন, কিন্তু বন্ধুর সংখ্যা সীমিত এবং সামাজিক জীবন প্রায় নেই বললেই চলে, তাদের জন্য এই ‘ফেক ওয়েডিং’ একটি আদর্শ বিনোদনের সুযোগ। উইকএন্ডে পার্টির বাইরে সম্পূর্ণ বিয়ের একটি পরিবেশ, যা কয়েক দিনের জন্য আনন্দ দিতে পারে, তা কে না চায়! কিন্তু নিয়মিত এটি সম্ভব নয়। তাই টিকিট কেটে এমন সাজানো বিয়েবাড়িতে যোগ দিয়ে সেই অভাব পূরণ করছেন অনেকেই।
ব্যবসায়িক দিক:
এই ‘ফেক ওয়েডিং’ কেবল বিনোদন নয়, এটি একটি লাখ টাকার ব্যবসাও বটে। এক্স হ্যান্ডলে একজন ব্যবহারকারী ১৪৯৯ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে এমন একটি বিয়েবাড়ির আনন্দের কথা পোস্ট করেছেন। এই ধরনের আয়োজনকারী সংস্থাগুলি এই নতুন ট্রেন্ডকে কাজে লাগিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, এবং অনেক ভিডিও ও বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রও পোস্ট করা হচ্ছে, যা এই ট্রেন্ডের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে।
Now you can pay ₹1499 and attend a fake wedding. No dulha, no rishtedaar, you come, take the vibe and go home. This covers food, dhol, dancing, and Instagram worthy pictures. Wild concept! 🤣 pic.twitter.com/CE3b197lBV
— Aaraynsh (@aaraynsh) July 9, 2025
একঘেয়ে জীবনে কিছুটা ‘মশলা’ যোগ করতে এবং সামাজিকতার অভাব পূরণ করতে ‘ফেক ওয়েডিং’ কি একটি টেকসই সমাধান, নাকি কেবলই একটি ক্ষণস্থায়ী সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড, তা সময়ই বলবে।
View this post on Instagram