বিশেষ: তাজমহলকে কি টক্কর দিতে পারবে ভারতের এই নতুন মন্দির? জেনেনিন কোথায় এর ঠিকানা?

তাজমহলের প্রতিদ্বন্দ্বী আগ্রার দয়ালবাগে: সাদা মার্বেলের রাধাসোয়ামি সৎসঙ্গ মন্দির, বিস্ময় ও বিতর্ক!
আগ্রা, ১৫ জুলাই, ২০২৫: চীনের দর্শনীয় স্থানগুলোর কথা মনে উঠলেই যেমন ‘গ্রেট ওয়াল অব চায়না’ চোখের সামনে ভেসে ওঠে, ফ্রান্স মানেই যেমন আইফেল টাওয়ার, তেমনি ভারত মানেই তাজমহল। বিশ্বখ্যাত সাদা মার্বেল পাথরের এই ‘স্মৃতিসৌধ’ দেখতে প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক উত্তর প্রদেশের আগ্রা শহরে ভিড় জমান। কিন্তু সম্প্রতি এই শহরেই সম্রাট শাহজাহানের তৈরি এই সপ্তাশ্চর্য এক অপ্রত্যাশিত প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে!
রাধাসোয়ামি সৎসঙ্গ মন্দিরের আবির্ভাব
বিষয়টির আবির্ভাব মূলত রাধাসোয়ামি সৎসঙ্গ মন্দির ঘিরে। তাজমহল থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে দয়ালবাগের সোমিবাগে রাধাসোয়ামি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠিত ও সদ্য নির্মিত এই সাদা মার্বেলের মন্দিরস্থলটিকে এখন অনেকেই তাজমহলের সঙ্গে তুলনা করছেন। এটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থীকে আকৃষ্ট করছে।
আগ্রা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবস্থিত এই মন্দিরটির নির্মাণকাজ ১৯০৪ সালে শুরু হয়েছিল এবং আজও চলছে। এটির প্রতিষ্ঠাতা হলেন সোমি শিবদয়াল সিং। আর মন্দিরটি উৎসর্গ করা হয়েছে রাধাসোয়ামি বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠাতা পরম পুরুষ পূর্ণধনি স্বামীজি মহারাজকে।
অনন্য স্থাপত্য ও নির্মাণশৈলী
৫২টি কূপের উপর ভিত্তি করে তৈরি, ১৯৩ ফুট লম্বা এই কাঠামো নিঃসন্দেহে ভারতের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি। যদিও এখনো কিছু ছোটখাটো সংযোজন বাকি রয়েছে। রাধাসোয়ামি সৎসঙ্গ মন্দিরের মূল কাঠামোর আয়তন একশো বর্গফুটেরও বেশি। গোটা মন্দিরের নকশায় জৈন, মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান স্থাপত্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে। এক শতাব্দী আগে নির্মাণ শুরু হওয়া এই মার্বেল কাঠামোর মন্দিরের কারিগরেরা বংশ পরম্পরায় আজও কাজ করে চলেছেন, যা এর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
তাজমহলের প্রতিদ্বন্দ্বী নাকি শুধুই সৌন্দর্য?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, আগ্রা শহরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠছে রাধাসোয়ামি সৎসঙ্গ মন্দির, যেখানে প্রতিদিনই পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই এই মন্দিরের মহিমা দেখে বিস্মিত হচ্ছেন এবং এটিকে তাজমহলের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী বলেও মনে করছেন।
তবে, পর্যটকদের একটা বড় অংশের বক্তব্য, মন্দিরটি দেখতে সুন্দর হলেও কোনোভাবেই তাজমহলের সঙ্গে এর তুলনা চলে না। তাজমহল তার ইতিহাস, প্রেমের উপাখ্যান এবং সূক্ষ্ম কারুকার্যের জন্য বিশ্বজুড়ে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। এমনিতে বিশ্বজুড়েই তাজমহলের নানা প্রতিরূপ ছড়িয়ে রয়েছে। যার অন্যতম হলো মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গাবাদ শহরের ‘বিবি কা মাকবারা’। বেগম রাবিয়া-উদ-দৌরানির মৃত্যুর পর তাজমহলের নকশা অবলম্বনে একটি মন্দিরসৌধ গড়ার নির্দেশ দেন শাহজাহানপুত্র আওরঙ্গজেব, যেটির কাজ শেষ করেন তার বড় ছেলে কুতুব-উদ-দীন মুহাম্মদ আজম।
রাধাসোয়ামি সৎসঙ্গ মন্দির নিঃসন্দেহে আগ্রার নতুন আকর্ষণ, যা তার নিজস্ব স্থাপত্যশৈলী ও শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিতি লাভ করছে। কিন্তু ‘বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্য’ তাজমহলের সঙ্গে এর তুলনা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েই যাবে।