“রাজ্যটা এখন ‘মামা-মামির’ দখলে”- বিজেপিকে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেসের গৌরব গগৈ

আসন্ন লোকসভা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি) সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের অসম সফরের আগে প্রস্তুতি তুঙ্গে। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (এপিসিসি) সভাপতি গৌরব গগৈ রবিবার কামরূপ জেলার বকো-ছায়গাঁও বিধানসভা কেন্দ্রের বান গাঁওয়ের শান্তি নেজোরা ক্লাবে জনসভার স্থান পরিদর্শন করেছেন। আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভাকে ঘিরে কংগ্রেস কর্মীরা পুরোদমে কাজ করে চলেছেন।

পরিদর্শনে গৌরব গগৈয়ের সঙ্গে ছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও বিধায়ক রেকিবুদ্দিন আহমেদ, নন্দিতা দাস এবং দুধনইয়ের বিধায়ক যদব স্বর্গিয়ারি-সহ দলের অন্যান্য সদস্যরা। এই অনুষ্ঠানে আসামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কংগ্রেস নেতা, কর্মী, মণ্ডল, ব্লক এবং জেলা ইউনিটের প্রধানরা, সেইসঙ্গে সাম্প্রতিক পঞ্চয়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ:

পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গৌরব গগৈ বিজেপি-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি সরকারের উচ্ছেদ অভিযানকে ‘মানবিকতাবিহীন’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, এই অভিযানগুলি সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়েছে এবং কর্পোরেট স্বার্থ ও রাজনৈতিক মিত্রদের সুবিধার্থে পরিচালিত হচ্ছে।

গগৈ বলেন, “আজ অসমের জমি ‘মামা-মামি’র কবলে। বিজেপি সরকার সাধারণ নাগরিকদের দুর্দশার দিকে নজর না দিয়ে কর্পোরেট ও তাদের রাজনৈতিক বন্ধুদের পক্ষে কাজ করছে।” তিনি আরও দাবি করেন, আসামের জনগণ বর্তমান সরকারের উপর ভরসা হারিয়েছে এবং বিজেপি শাসনের অধীনে ব্যাপক অন্যায় ও প্রশাসনিক অনিয়মের কারণে একটি রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছে।

খড়গে ও রাহুলের সফরের তাৎপর্য:

মল্লিকার্জুন খড়গে এবং রাহুল গান্ধীর এই সফর অসমে কংগ্রেসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই জনসভার মাধ্যমে দলটি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। গৌরব গগৈ জানিয়েছেন, খড়গে এবং রাহুল গান্ধীকে আসামের জনগণের মুখোমুখি হওয়া প্রধান সমস্যাগুলির বিষয়ে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হবে।

এই সভা কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আসামে দলের প্রভাব বাড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই সফর কংগ্রেসের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে কংগ্রেস নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে চাইছে।

ভাষা রাজনীতির প্রসঙ্গ:

গৌরব গগৈ এই সফরের সময় অসমে বাংলা ভাষার প্রচলন ও প্রচারের বিষয়েও মন্তব্য করেছেন। যদিও তাঁর মন্তব্যের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে এই বিষয়টি অসমের ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। আসামে বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে, এবং কংগ্রেস এই বিষয়টিকে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

অসমের বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের এই তীব্র অবস্থান রাজ্যের রাজনৈতিক গতিবিদ্যাকে আরও উত্তপ্ত করেছে। বিজেপি সরকারের উচ্ছেদ অভিযান এবং জমি সংক্রান্ত নীতিগুলি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, যা কংগ্রেস তাদের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে কংগ্রেস অসমে তাদের তৃণমূল স্তরের সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে। খড়গে এবং রাহুল গান্ধীর সফর এই প্রচেষ্টাকে আরও গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং এই সভা আসামে কংগ্রেসের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।