কারাগারের অন্দরমহলে চাঞ্চল্য, কয়েদির পেট থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার, তদন্তের নির্দেশ

কারাগারের অভ্যন্তরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক কয়েদির পেটের ভেতর থেকে উদ্ধার হলো একটি আস্ত মোবাইল ফোন! কর্ণাটকের শিবমোগ্গা জেলার ম্যাকগান টিচিং ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরনো আমলের এই কি-প্যাড ফোনটি বের করে কয়েদির প্রাণ বাঁচিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় শিবমোগ্গা সেন্ট্রাল জেলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং মোবাইল ফোনটি কয়েদির পেটে গেল কী করে, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার।

ঘটনার সূত্রপাত:

৩০ বছর বয়সী দৌলত ওরফে গুন্ডা নামে ওই কয়েদি শিবমোগ্গা সেন্ট্রাল জেলের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। গত ২৩ জুন সে জেলের চিকিৎসকের কাছে পেটে ব্যথার অভিযোগ জানায়। চিকিৎসকরা কী খেয়েছে জানতে চাইলে সে জানায়, একটি পাথর গিলে ফেলেছে। পরবর্তীতে অবশ্য বোঝা যায়, দৌলত মিথ্যা কথা বলেছিল। পরদিন, অর্থাৎ ২৪ জুন, পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হলে তাকে দ্রুত ম্যাকগান টিচিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অস্ত্রোপচার ও মোবাইল ফোন উদ্ধার:

হাসপাতালে আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন যে কয়েদির পেটে একটি কঠিন বস্তু আটকে রয়েছে, যা ব্যথার কারণ। জেলের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ পি রঙ্গনাথ রিপোর্ট দেখে তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচারের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী, ২৭ জুন ডাঃ ধনঞ্জয়, ডাঃ চন্দন এবং ডাঃ রক্ষিতের একটি চিকিৎসক দল সফলভাবে অস্ত্রোপচার করে দৌলতের পেট থেকে একটি সাধারণ কি-প্যাড মোবাইল ফোন বের করেন। অস্ত্রোপচারের পর দৌলতকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা করা হয় এবং ৮ জুলাই তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ টিডি থিম্মাপ্পা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত:

২০২১ সালে মারিজুয়ানা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল দৌলত। ২০২৪ সালে শিবমোগ্গা আদালত তাকে দশ বছরের কারাবাসের সাজা দিলে সে শিবমোগ্গা সেন্ট্রাল জেলের কয়েদি হিসেবে বন্দি ছিল।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় টুঙ্গানগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার বলেন, “দৌলত ওরফে গুন্ডা একজন কয়েদি। তার পেটে যন্ত্রণা হচ্ছিল। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অস্ত্রোপচারের সময় তার পেট থেকে মোবাইল ফোন বের করেন চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।”

কীভাবে জেলের সুরক্ষিত পরিবেশে একজন কয়েদির কাছে মোবাইল ফোন পৌঁছাল এবং সেটি তার পেটে গেল, তা নিয়ে গভীর রহস্য দানা বেঁধেছে। এই ঘটনা জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে এবং তদন্তের ফলাফল কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।