ফের ভূমিকম্প দিল্লিতে, ২ দিনের মাথায় আবার কেঁপে উঠল ভারতের রাজধানী

শুক্রবার রাতে দিল্লিতে ও এনসিআর (National Capital Region) এলাকায় আবারও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। গত দু’দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো কম্পন, যা বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত ৭টা ৪৯ মিনিটে হরিয়ানার ঝাজ্জর ছিল কম্পনের উৎসস্থল। ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পন অনুভূত হয়।

উল্লেখ্য, গতকালও হরিয়ানার ঝাজ্জরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। বৃষ্টির মধ্যেই সকাল ৯টা ৪ মিনিট নাগাদ প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে এই কম্পন স্থায়ী হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৪। এই ভূমিকম্পে দিল্লি, নয়ডা, গাজিয়াবাদ ছাড়াও পাঞ্জাব, রাজস্থান, জম্মু ও কাশ্মীরও কেঁপে উঠেছিল। দু’দিনের মাথায় একই এলাকায় পরপর দু’বার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

ভূমিকম্প কী ও কেন হয়?
ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর ভূত্বকের হঠাৎ কম্পন। আমাদের পৃথিবী সাতটি প্রধান টেকটোনিক প্লেট দিয়ে গঠিত, যা পৃথিবীর ভূত্বকের নিচে ক্রমাগত নড়াচড়া করে। যখন এই প্লেটগুলি একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, ঘষা লাগে, একটি প্লেট অন্যটির উপর উঠে যায় বা দূরে সরে যায়, তখন ভূপৃষ্ঠে কম্পন সৃষ্টি হয়। এই কম্পনই ভূমিকম্প নামে পরিচিত। ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের জন্য রিখটার স্কেল ব্যবহার করা হয়, যাকে রিখটার ম্যাগনিট্যুড স্কেলও বলা হয়।

সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্প: মায়ানমারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
গত মার্চ মাসে মায়ানমারে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৭.৭, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছে। এই ভূমিকম্পে ২,০০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দেশটির মান্দালয় শহরে। মায়ানমারের পাশাপাশি প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও কম্পন অনুভূত হয়েছিল এবং সেখানেও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

দিল্লি ও এনসিআর এলাকায় পরপর ভূমিকম্পের ঘটনা ভূ-তত্ত্ববিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।