সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান এবার প্লাস্টিকমুক্ত, বন্যপ্রাণ ও পরিবেশ রক্ষায় জিটিএ-র কড়া পদক্ষেপ

প্লাস্টিকের ক্রমবর্ধমান আবর্জনায় বিপন্ন পাখি ও বন্যপ্রাণী, দূষিত হচ্ছে পাহাড়ের পরিবেশ। এই গুরুতর সংকট মোকাবিলায় এবার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) পর্যটন বিভাগ। সিদ্ধান্ত হয়েছে, রেডপান্ডা ও লেপার্ডের আবাসস্থল সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানে সম্পূর্ণভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। বন দফতর, পুলিশ ও এসএসবি’র সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়েছে।

জিটিএ-র এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা। এই নিয়ম কার্যকর করার জন্য মানেভঞ্জনে একটি চেকপোস্ট বসানো হবে, যেখানে পর্যটকদের যানবাহন তল্লাশি করা হবে। শুধু তাই নয়, কোনও পর্যটক পার্কে প্লাস্টিক ফেললে আদায় করা হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। এই উদ্যোগ সফল করতে পাহাড়জুড়ে ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতা অভিযান চালানো হবে।

জিটিএ’র পর্যটন বিভাগের ডিরেক্টর দাওয়া গ্যালপো শেরপা বলেন, “সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানকে প্লাস্টিকমুক্ত করা হবে। এজন্য সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চালানোর পাশাপাশি কিছু কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পর্যটনের আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মরশুম থেকে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, দেশের পর্যটন মানচিত্রে দার্জিলিংয়ের সিঙ্গালিলা উদ্যান অন্যতম।”

তিনি আরও বলেন, “পাখি, বন্যপ্রাণী ও জঙ্গল সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট পার্কে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। বর্ষার মরশুমের জন্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পার্ক বন্ধ থাকবে। এই সময়কালে পার্কের বর্জ্য অপসারণ করা হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর পার্ক খোলার পর প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।” সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের পাশেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল অবস্থিত। সংশ্লিষ্ট এলাকাকে প্লাস্টিকমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে নেপালের সঙ্গে যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে দাওয়া গ্যালপো শেরপা জানান।

মানেভঞ্জনের চেকপোস্টে পর্যটকদের যানবাহন-সহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। নিষিদ্ধ প্লাস্টিক পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। তাই পর্যটকদের কাছে বিশেষ অনুরোধ, মানেভঞ্জন, সান্দাকফু এবং সিঙ্গালিলা পার্কে প্লাস্টিকজাতীয় কোনো জিনিস নিয়ে না যাওয়ার জন্য। কেউ যদি স্থানীয় এলাকার জঙ্গল ও রাস্তায় প্লাস্টিক ফেলে, তবে বনদফতর তার কাছ থেকে জরিমানা আদায় করবে।

সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান তার অতুলনীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। ভূপৃষ্ঠ থেকে শুরু করে এই উদ্যান বিভিন্ন ধরনের গাছ, ভেষজ উদ্ভিদ এবং বিরল প্রজাতির জীবের আবাসস্থল। এখানে বিরল অর্কিড, বিভিন্ন ধরনের পাখি, রেডপান্ডা, ব্ল্যাক প্যান্থার এবং লেপার্ডের মতো প্রাণী দেখতে পাওয়া যায়। দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক ও গবেষক এই স্থানে ভীড় জমান। এমন একটি স্পর্শকাতর পরিবেশে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার এই কড়া পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে পরিবেশ সুরক্ষায় এক মাইলফলক স্থাপন করবে।