ভাঙড়ের পর মালদা, জন্মদিনের পার্টিতে তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুন, অভিযুক্ত দলেরই নেতা!

ভাঙড়ে তৃণমূল নেতার মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মালদায় জন্মদিনের পার্টিতে নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটল। ইংরেজবাজারের এক জন্মদিনের পার্টিতে বন্ধ ঘরের মধ্যে তৃণমূল কর্মী আবুল কালাম আজাদকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আবুল কালামের স্ত্রী-সহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। খুনের অভিযোগের তীর খোদ তৃণমূলেরই নেতা মাইনুল শেখের দিকে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইংরেজবাজারে একটি জন্মদিনের পার্টি চলছিল। সেই পার্টিতেই হঠাৎ করে তৃণমূল কর্মী আবুল কালাম আজাদকে একটি বন্ধ ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এই বর্বরোচিত হামলায় আবুল কালামের স্ত্রী এবং আরও তিনজন গুরুতর আঘাত পেয়েছেন, যাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খুনের অভিযোগ উঠেছে কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মাইনুল শেখের বিরুদ্ধে। মাইনুল শেখ একজন পরিচিত জমির কারবারি। এই ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দলেরই ব্লক সভাপতি মাইনুল শেখকে ‘জমি মাফিয়া’ বলে আক্রমণ করেছেন। পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে পরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন মাইনুল। ব্লক সভাপতি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মাইনুলকে দলে নেওয়া হয়েছিল? এর পাল্টা হিসেবে জেলা সভাপতি দাবি করেছেন, মাইনুল নিয়ম মেনেই দলে ফিরতে চেয়েছিলেন। এই ঘটনায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং স্থানীয় স্তরে ক্ষমতার লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
ভাঙড়ে তৃণমূল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, ঠিক তখনই মালদার এই হত্যাকাণ্ড শাসকদলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। বিরোধীরা স্বভাবতই এই ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ফল হিসেবে দেখছে। মালদার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় প্রকাশ্য পার্টিতে এমন খুনের ঘটনা প্রশাসনের ভূমিকাকেও প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত মাইনুল শেখকে ধরতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আবুল কালাম আজাদের পরিবার এই খুনের ঘটনার বিচার চেয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। এই ঘটনায় মালদার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।